ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২–৩৫: মৌলিক অধিকার, ব্যতিক্রম ও পাঁচটি রিটের সম্পূর্ণ আলোচনা
রাষ্ট্রের সংজ্ঞা থেকে সাংবিধানিক প্রতিকার—প্রতিটি অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ, গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, জরুরি অবস্থার বিধান এবং পাঁচটি রিটের পার্থক্য জানুন বিস্তারিতভাবে। WBCS, UPSC ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিশেষ নির্দেশিকা।

ভারতীয় সংবিধানের ১২–৩২ নং অনুচ্ছেদ: সম্পূর্ণ আলোচনা, ব্যতিক্রম, উপ-অনুচ্ছেদ ও পাঁচটি রিট
DNN7 | Indian Polity | WBCS, UPSC, SSC ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি
ভারতীয় সংবিধানের ১২ থেকে ৩২ নং অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) অধ্যায়ের মূল ভিত্তি। এই অংশে রাষ্ট্রের সংজ্ঞা, আইনের সমতা, স্বাধীনতার অধিকার, শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত অধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার আলোচনা করা হয়েছে।
এই আলোচনায় প্রতিটি অনুচ্ছেদের মূল বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ উপ-অনুচ্ছেদ, ব্যতিক্রম, বিশেষ বিধান, পরীক্ষায় মনে রাখার বিষয় এবং পাঁচটি সাংবিধানিক রিটের পার্থক্য তুলে ধরা হলো।
১. মৌলিক অধিকার: একনজরে
Part III — মৌলিক অধিকার
অনুচ্ছেদ ১২–৩৫
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার রয়েছে। এখানে আলোচনার পরিধি অনুচ্ছেদ ১২–৩২। কারা অধিকার পায়?কিছু অধিকার শুধু নাগরিকদের জন্য; অন্য কিছু অধিকার নাগরিক ও বিদেশি—উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে উপযুক্ত ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া যায়।
মৌলিক অধিকারের ছয়টি প্রচলিত শ্রেণি
শ্রেণি | অনুচ্ছেদ |
|---|---|
সমতার অধিকার | ১৪–১৮ |
স্বাধীনতার অধিকার | ১৯–২২ |
শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার | ২৩–২৪ |
ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার | ২৫–২৮ |
সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত অধিকার | ২৯–৩০ |
সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার | ৩২ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সম্পত্তির অধিকার বর্তমানে মৌলিক অধিকার নয়। ৪৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ১৯(১)(f) বিলুপ্ত হয় এবং অনুচ্ছেদ ৩০০A-এর অধীনে সম্পত্তির অধিকার সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে থাকে।
২. অনুচ্ছেদ ১২ — রাষ্ট্রের সংজ্ঞা (Definition of State)
অনুচ্ছেদ ১২ নির্ধারণ করে, মৌলিক অধিকারের প্রসঙ্গে ‘রাষ্ট্র’ বলতে কোন কোন কর্তৃপক্ষকে বোঝানো হবে।
এর অন্তর্ভুক্ত:
ভারত সরকার ও সংসদ।
প্রতিটি রাজ্যের সরকার ও আইনসভা।
ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে অথবা ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য স্থানীয় ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদাহরণ: পৌরসভা, পঞ্চায়েত ও আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় সংস্থা।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা
কোনো সরকারি সংস্থা বা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান অনুচ্ছেদ ১২-এর ‘অন্যান্য কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে গণ্য হবে কি না, তা তার প্রকৃতি, সরকারি নিয়ন্ত্রণ, কার্যাবলি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ভিত্তিতে আদালত নির্ধারণ করে। সরকারি অর্থায়ন থাকলেই প্রতিটি সংস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাষ্ট্র হয়ে যায় না।
ব্যতিক্রম: অনুচ্ছেদ ১২-তে আলাদা কোনো উপ-অনুচ্ছেদ নেই। তবে সংজ্ঞাটি শুধু Part III-তে ব্যবহৃত ‘রাষ্ট্র’ শব্দের অর্থ নির্ধারণ করে।
পরীক্ষায় মনে রাখবে: অনুচ্ছেদ ১২ নিজে কোনো নির্দিষ্ট মৌলিক অধিকার দেয় না; বরং পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলিতে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নির্ধারণে সাহায্য করে।
৩. অনুচ্ছেদ ১৩ — মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন
অনুচ্ছেদ ১৩ মৌলিক অধিকারের বিরোধী আইনকে নিয়ন্ত্রণ করে। সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগে ও পরে তৈরি আইনের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের গুরুত্ব রয়েছে।
উপ-অনুচ্ছেদগুলির বিশ্লেষণ
উপ-অনুচ্ছেদ | মূল বক্তব্য |
|---|---|
১৩(১) | সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগে প্রচলিত আইন মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যতটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততটা অসামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে অকার্যকর হবে। |
১৩(২) | রাষ্ট্র মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয় বা সীমিত করে—এমন আইন তৈরি করতে পারবে না; করলে বিরোধী অংশ অকার্যকর হবে। |
১৩(৩)(ক) | ‘আইন’-এর মধ্যে অধ্যাদেশ, আদেশ, উপবিধি, বিধি, প্রবিধান, বিজ্ঞপ্তি, প্রথা বা রীতিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। |
১৩(৩)(খ) | সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগে আইনসভার দ্বারা প্রণীত বা অন্য কর্তৃপক্ষের তৈরি আইনও ‘প্রচলিত আইন’-এর অন্তর্ভুক্ত। |
১৩(৪) | অনুচ্ছেদ ১৩ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৮-এর অধীনে করা সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। |
গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম ও বিচারিক নীতি
Doctrine of Severability: আইনের শুধু অসাংবিধানিক অংশ আলাদা করা সম্ভব হলে বাকি অংশ কার্যকর থাকতে পারে।
Doctrine of Eclipse: সংবিধান-পূর্ব কোনো আইন মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সংঘাতের কারণে অকার্যকর হতে পারে; তার প্রয়োগের ধরন নির্ভর করে আইনের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট অধিকারটির ওপর।
সংবিধান সংশোধন: অনুচ্ছেদ ১৩(৪) থাকলেও সংসদের সংশোধন ক্ষমতা সীমাহীন নয়। Kesavananda Bharati v. State of Kerala (1973) মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করে এমন সংশোধন বৈধ নয়।
পরীক্ষার ফাঁদ: অনুচ্ছেদ ১৩(৪) মানে এই নয় যে সংবিধানের প্রতিটি সংশোধন বৈধ। সংশোধনকে মৌলিক কাঠামোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
৪. অনুচ্ছেদ ১৪ — আইনের দৃষ্টিতে সমতা
অনুচ্ছেদ ১৪ অনুযায়ী, রাষ্ট্র ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে কোনো ব্যক্তিকে আইনের দৃষ্টিতে সমতা বা আইনের সমান সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।
এখানে ‘কোনো ব্যক্তি’ কথাটি গুরুত্বপূর্ণ। অধিকারটি শুধু ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বিদেশিরাও এর সুরক্ষা পেতে পারেন।
দুটি মূল ধারণা
Equality before Law: আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়; একই আইনের অধীনে সমান দায়বদ্ধতা।
Equal Protection of Laws: একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের সমান আইনি সুরক্ষা।
ব্যতিক্রম ও সীমা
সমতার অর্থ সব পরিস্থিতিতে প্রত্যেককে অভিন্নভাবে বিবেচনা করা নয়। যুক্তিসংগত শ্রেণিবিভাগ (Reasonable Classification) করা যায়, যদি—
1. শ্রেণিবিভাগের ভিত্তি স্পষ্ট ও বোধগম্য হয়।
2. সেই ভিত্তি আইনটির উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্তিসংগত সম্পর্ক রাখে।
এ ছাড়া সংবিধানের অন্যান্য বিধানে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক সুরক্ষা ও অনাক্রম্যতা রয়েছে। যেমন, রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের জন্য অনুচ্ছেদ ৩৬১-এ নির্দিষ্ট সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
মনে রাখবে: অনুচ্ছেদ ১৪ = নাগরিক ও বিদেশি—উভয়ের জন্য প্রযোজ্য; তবে আইনসম্মত শ্রেণিবিভাগ নিষিদ্ধ নয়।
৫. অনুচ্ছেদ ১৫ — বৈষম্য নিষিদ্ধকরণ
অনুচ্ছেদ ১৫ ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ করে।
উপ-অনুচ্ছেদ ও বিশেষ বিধান
ধারা | বিস্তারিত |
|---|---|
১৫(১) | রাষ্ট্র শুধু ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে বৈষম্য করতে পারবে না। |
১৫(২) | নাগরিকদের দোকান, গণ-ভোজনাগার, হোটেল ও জনসাধারণের ব্যবহারের নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহারে ওই ভিত্তিগুলিতে নিষেধাজ্ঞা বা অক্ষমতার শিকার করা যাবে না। |
১৫(৩) | নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ বিধান করা যাবে। |
১৫(৪) | সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসর শ্রেণি এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির উন্নতির জন্য বিশেষ বিধান করা যাবে। |
১৫(৫) | আইন দ্বারা নির্ধারিত শর্তে সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসর শ্রেণি এবং SC/ST-দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য বিশেষ বিধান করা যায়; সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুচ্ছেদ ৩০(১)-এর সুরক্ষার কারণে এর বাইরে। |
১৫(৬) | অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি (EWS)-এর উন্নতির জন্য বিশেষ বিধান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০% সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়; এটি অন্যান্য বিদ্যমান সংরক্ষণের অতিরিক্ত হতে পারে। সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যতিক্রম এখানে প্রযোজ্য। |
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৫(৪) প্রথম সংবিধান সংশোধনী আইন, ১৯৫১-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়।
অনুচ্ছেদ ১৫(৫) যুক্ত হয় ৯৩তম সংশোধনী, ২০০৫-এর মাধ্যমে।
অনুচ্ছেদ ১৫(৬) যুক্ত হয় ১০৩তম সংশোধনী, ২০১৯-এর মাধ্যমে।
ব্যতিক্রমের প্রশ্ন: অনুচ্ছেদ ১৫(৩), ১৫(৪), ১৫(৫) ও ১৫(৬) বৈষম্য নিষিদ্ধ করার নিয়মের মধ্যেই বিশেষ ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণের সাংবিধানিক সুযোগ তৈরি করে।
পরীক্ষার ফাঁদ: অনুচ্ছেদ ১৫-তে ‘জন্মস্থান’ (Place of Birth) রয়েছে, কিন্তু ‘বাসস্থান’ (Residence) শব্দটি নেই। বাসস্থানের ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে বিধানের প্রশ্নটি অনুচ্ছেদ ১৬(৩)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
৬. অনুচ্ছেদ ১৬ — সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা
অনুচ্ছেদ ১৬ সরকারি চাকরি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করে। এটি মূলত নাগরিকদের অধিকার।
ধারা | মূল বক্তব্য |
|---|---|
১৬(১) | রাষ্ট্রের অধীনে চাকরি বা পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ থাকবে। |
১৬(২) | ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, বংশ, জন্মস্থান, বাসস্থান বা এদের মধ্যে কোনো একটির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ। |
১৬(৩) | সংসদ আইন করে নির্দিষ্ট সরকারি চাকরিতে বাসস্থানের শর্ত নির্ধারণ করতে পারে। |
১৬(৪) | রাষ্ট্রের মতে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নেই—এমন অনগ্রসর নাগরিক শ্রেণির জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের বিধান করা যায়। |
১৬(৪A) | SC/ST-দের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না থাকলে পদোন্নতিতে সংরক্ষণের বিধান করা যায়। |
১৬(৪B) | সংরক্ষিত শূন্যপদের যে অংশ এক বছরে পূরণ হয়নি, তা পরবর্তী বছরের পৃথক শ্রেণি হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে; নির্দিষ্ট শর্তে এটি সংশ্লিষ্ট বছরের ৫০% সংরক্ষণসীমা গণনার বাইরে থাকতে পারে। |
১৬(৫) | ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট পদে সংশ্লিষ্ট ধর্মের অনুসারী হওয়ার শর্ত আইন দ্বারা রাখা যেতে পারে। |
১৬(৬) | EWS-এর জন্য সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ ১০% সংরক্ষণের বিধান করা যায়; অন্যান্য সংরক্ষণের অতিরিক্ত। |
গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম
১৬(৪) ও ১৬(৪A) সংরক্ষণের সুযোগ দেয়; এগুলি প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না।
পদোন্নতিতে সংরক্ষণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক শর্ত ও সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যা প্রাসঙ্গিক।
১৬(৩)-এর অধীনে বাসস্থানের শর্ত আরোপের ক্ষমতা রাজ্য সরকার এককভাবে ইচ্ছামতো প্রয়োগ করতে পারে না; সাংবিধানিক বিধান অনুসারে সংসদের আইন প্রয়োজন।
পরীক্ষার তথ্য: অনুচ্ছেদ ১৫ ও ১৬-এর EWS বিধান ১০৩তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়।
৭. অনুচ্ছেদ ১৭ — অস্পৃশ্যতার বিলোপ
অনুচ্ছেদ ১৭ অস্পৃশ্যতা বিলোপ করে এবং তার যেকোনো রূপে চর্চা নিষিদ্ধ করে। অস্পৃশ্যতার কারণে কোনো অক্ষমতা আরোপ করা আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
এটি সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠার সাংবিধানিক ভিত্তি।
এই অনুচ্ছেদ শুধু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, ব্যক্তিগত আচরণের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক।
অস্পৃশ্যতা (অপরাধ) আইন, ১৯৫৫ পরে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা আইন, ১৯৫৫ নামে পরিচিত হয়।
তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অত্যাচার প্রতিরোধে ১৯৮৯ সালের পৃথক আইনও রয়েছে।
ব্যতিক্রম: অনুচ্ছেদ ১৭-তে কোনো সাধারণ ব্যতিক্রম উল্লেখ নেই। তবে এর আইনগত প্রয়োগে কোন আচরণ অস্পৃশ্যতার চর্চা হিসেবে গণ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিচারিক ব্যাখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
৮. অনুচ্ছেদ ১৮ — উপাধি বিলোপ
অনুচ্ছেদ ১৮ বংশগত বা সামাজিক শ্রেণিবিভাগমূলক উপাধির বিলোপের ব্যবস্থা করে।
ধারা | বিধান |
|---|---|
১৮(১) | রাষ্ট্র সামরিক বা শিক্ষাগত সম্মান ব্যতীত অন্য উপাধি প্রদান করবে না। |
১৮(২) | ভারতীয় নাগরিক বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে উপাধি গ্রহণ করতে পারবেন না। |
১৮(৩) | ভারতের নাগরিক নন, কিন্তু রাষ্ট্রের অধীনে লাভজনক বা আস্থাভিত্তিক পদে রয়েছেন—এমন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে উপাধি গ্রহণ করতে পারবেন না। |
১৮(৪) | রাষ্ট্রের অধীনে লাভজনক বা আস্থাভিত্তিক পদে থাকা ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে উপহার, পারিতোষিক বা পদ গ্রহণ করতে পারবেন না। |
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা
ভারতরত্ন ও পদ্ম পুরস্কার সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ উপাধির সমতুল্য নয়, যদি সেগুলি নামের আগে বা পরে বংশগত বা উপাধির মতো ব্যবহার না করা হয়।
সামরিক ও শিক্ষাগত সম্মান স্পষ্ট ব্যতিক্রম।
পরীক্ষায় মনে রাখবে: অনুচ্ছেদ ১৮(১)-এর ব্যতিক্রম হলো সামরিক ও শিক্ষাগত সম্মান।
৯. অনুচ্ছেদ ১৯ — স্বাধীনতার অধিকার
অনুচ্ছেদ ১৯ ভারতীয় নাগরিকদের ছয়টি মৌলিক স্বাধীনতা প্রদান করে। মূলত সাতটি স্বাধীনতা ছিল; সম্পত্তির অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ১৯(১)(f) ৪৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ১৯(১)-এর ছয়টি স্বাধীনতা
ধারা | স্বাধীনতা |
|---|---|
১৯(১)(a) | বাক্ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা |
১৯(১)(b) | নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার স্বাধীনতা |
১৯(১)(c) | সমিতি, সংঘ বা সমবায় সমিতি গঠনের স্বাধীনতা |
১৯(১)(d) | ভারতের ভূখণ্ডে অবাধে চলাফেরার স্বাধীনতা |
১৯(১)(e) | ভারতের যেকোনো অংশে বসবাস ও স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের স্বাধীনতা |
১৯(১)(g) | পেশা, বৃত্তি, ব্যবসা বা বাণিজ্য পরিচালনার স্বাধীনতা |
স্বাধীনতাগুলির উপর বিধিনিষেধ: ১৯(২)–১৯(৬)
ধারা | কী কারণে বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়? |
|---|---|
১৯(২) | বাক্স্বাধীনতা: ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, মানহানি ও অপরাধে প্ররোচনা। |
১৯(৩) | সমাবেশ: ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা এবং জনশৃঙ্খলার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ। |
১৯(৪) | সমিতি গঠন: ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, জনশৃঙ্খলা এবং নৈতিকতার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ। |
১৯(৫) | চলাফেরা ও বসবাস: সাধারণ মানুষের স্বার্থে অথবা তফসিলি উপজাতির স্বার্থরক্ষায় যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ। |
১৯(৬) | পেশা ও ব্যবসা: সাধারণ মানুষের স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ, পেশাগত যোগ্যতার শর্ত এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের একচেটিয়া ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ। |
গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম ও ব্যাখ্যা
বাক্স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ নয়। আইনসম্মত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের অধীনে এটি প্রয়োগ করতে হয়।
শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার মানে যেকোনো স্থানে অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করার অবাধ অধিকার নয়।
পেশা বা ব্যবসার স্বাধীনতা মানে বেআইনি ব্যবসা করার অধিকার নয়।
চলাফেরা ও বসবাসের স্বাধীনতা জনস্বার্থ ও তফসিলি উপজাতির স্বার্থরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
১৯(১)(f) বর্তমানে কার্যকর মৌলিক অধিকার নয়।
পরীক্ষার বিশেষ তথ্য: অনুচ্ছেদ ১৯-এর অধিকারগুলি নাগরিকদের জন্য, সকল ব্যক্তির জন্য নয়।
১০. অনুচ্ছেদ ২০ — অপরাধে দণ্ডদানের ক্ষেত্রে সুরক্ষা
অনুচ্ছেদ ২০ অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা দেয়।
ধারা | সুরক্ষা | অর্থ |
|---|---|---|
২০(১) | Ex Post Facto Criminal Law-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা | অপরাধ সংঘটনের সময় যে আইন অনুযায়ী তা অপরাধ ছিল না, পরে সেই কাজের জন্য কাউকে দণ্ডিত করা যাবে না। অপরাধের সময়কার আইনের তুলনায় বেশি শাস্তিও পরে আরোপ করা যাবে না। |
২০(২) | Double Jeopardy-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা | একই অপরাধের জন্য একবার বিচার ও দণ্ডিত হওয়ার পর একই অপরাধে আবার বিচার করে দণ্ড দেওয়ার বিরুদ্ধে সুরক্ষা। |
২০(৩) | আত্ম-অপরাধ স্বীকারে বাধ্য করার বিরুদ্ধে সুরক্ষা | কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। |
ব্যতিক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা
২০(১): অপরাধ সংঘটনের পর আইন কঠোর হলে, নতুন কঠোর শাস্তি পূর্ববর্তী অপরাধে প্রয়োগ করা যাবে না। তবে দণ্ডবিধির পরিবর্তন ও পদ্ধতিগত আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিগুলি আলাদা করে বিচার করতে হয়।
২০(২): একই অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী বিচার ও দণ্ডের সাংবিধানিক শর্ত পূরণ হওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেক নতুন মামলা বা বিভাগীয় তদন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে Double Jeopardy নয়।
২০(৩): আত্ম-অপরাধ স্বীকারে বাধ্য করার বিরুদ্ধে সুরক্ষা মূলত অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বৈধ পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ বা নির্দিষ্ট শারীরিক নমুনা সংগ্রহকে সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে আত্ম-অপরাধ স্বীকার হিসেবে গণ্য করা হয় না।
বিশেষ তথ্য: অনুচ্ছেদ ২০-এর সুরক্ষা বিদেশি-সহ সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ৩৫৯-এর অধীনে এই অধিকারগুলির প্রয়োগ স্থগিত করার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ।
১১. অনুচ্ছেদ ২১ — জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার
অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ না করে কোনো ব্যক্তিকে তাঁর জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ ২১-এর বিস্তৃত বিচারিক ব্যাখ্যা
সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন রায়ে অনুচ্ছেদ ২১-এর পরিধি বিস্তৃত করেছে। এর সঙ্গে প্রাসঙ্গিকভাবে যুক্ত হয়েছে—
মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার।
ন্যায্য ও যুক্তিসংগত আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য, জীবিকা, আশ্রয় ও পরিবেশ-সংক্রান্ত সুরক্ষা।
দ্রুত বিচারের অধিকার।
হেফাজতে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সুরক্ষা।
গুরুত্বপূর্ণ মামলা
Maneka Gandhi v. Union of India (1978): সুপ্রিম কোর্ট ব্যাখ্যা করে যে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার আইনি পদ্ধতি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও অ-স্বেচ্ছাচারী হতে হবে।
Justice K.S. Puttaswamy v. Union of India (2017): ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ব্যতিক্রম ও সীমা
অনুচ্ছেদ ২১ জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে পরম বা সীমাহীন অধিকার হিসেবে ঘোষণা করে না। আইনসম্মত পদ্ধতিতে, সাংবিধানিক মানদণ্ড পূরণ করে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যায়।
পরীক্ষায় মনে রাখবে: অনুচ্ছেদ ২১-এর অধিকার নাগরিক ও বিদেশি—উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
১২. অনুচ্ছেদ ২১A — শিক্ষার অধিকার
৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য রাষ্ট্র আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করবে।
মূল বিষয়
৮৬তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ২০০২-এর মাধ্যমে যুক্ত।
কার্যকর হয় ১ এপ্রিল ২০১০ থেকে, শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯-এর বাস্তবায়নের সঙ্গে।
৬–১৪ বছর বয়সী শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত।
শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯-এ ভর্তি, উপস্থিতি, প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিধান রয়েছে।
ব্যতিক্রম ও সীমা: অনুচ্ছেদ ২১A-এর বয়সসীমা ৬ থেকে ১৪ বছর। এর অর্থ এই নয় যে ১৪ বছরের পর শিক্ষা বা শিক্ষার সুযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রের অন্য কোনো দায়িত্ব নেই; তবে এই অনুচ্ছেদের নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা ওই বয়সসীমার সঙ্গে সম্পর্কিত।
১৩. অনুচ্ছেদ ২২ — গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে সুরক্ষা
অনুচ্ছেদ ২২ গ্রেপ্তার এবং নির্দিষ্ট ধরনের আটক-সংক্রান্ত সুরক্ষা প্রদান করে। এর মধ্যে সাধারণ গ্রেপ্তার এবং প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention)-এর বিধান আলাদা।
উপ-অনুচ্ছেদ ও বিধান
ধারা | মূল বক্তব্য |
|---|---|
২২(১) | গ্রেপ্তারের কারণ যত দ্রুত সম্ভব জানাতে হবে এবং নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। |
২২(২) | গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিকে যাত্রার সময় বাদ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে; ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া এর বেশি আটক রাখা যাবে না। |
২২(৩) | ২২(১) ও ২২(২)-এর সুরক্ষা শত্রু বিদেশি এবং প্রতিরোধমূলক আটক-সংক্রান্ত আইনের অধীনে আটক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। |
২২(৪) | নির্দিষ্ট সাংবিধানিক শর্তে তিন মাসের বেশি প্রতিরোধমূলক আটক রাখার ক্ষেত্রে Advisory Board-এর মতামত অথবা সংসদের আইন দ্বারা অনুমোদিত বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন। |
২২(৫) | আটক ব্যক্তিকে আটক করার কারণ জানাতে হবে এবং আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিনিধিত্ব করার দ্রুততম সুযোগ দিতে হবে। |
২২(৬) | জনস্বার্থবিরোধী তথ্য প্রকাশ না করার সুযোগ রয়েছে। |
২২(৭) | সংসদ প্রতিরোধমূলক আটক সম্পর্কে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, সর্বোচ্চ সময়সীমা ও Advisory Board-এর পদ্ধতি আইন দ্বারা নির্ধারণ করতে পারে। |
গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম
২৪ ঘণ্টার নিয়মটি সাধারণ গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত সাংবিধানিক সুরক্ষার অংশ; এটি প্রতিরোধমূলক আটকের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।
প্রতিরোধমূলক আটক শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ক্ষতি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তবে তা কঠোর সাংবিধানিক ও আইনগত শর্তের অধীন।
২২(৪)-এ তিন মাসের উল্লেখ থাকলেও বর্তমান প্রযোজ্য সাংবিধানিক বিধান, সংসদীয় আইন ও বিচারিক ব্যাখ্যা একসঙ্গে পড়তে হয়।
পরীক্ষার ফাঁদ: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার নিয়মটি অনুচ্ছেদ ২২(২)-এর অধীনে সাধারণ গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
১৪. অনুচ্ছেদ ২৩ — মানব পাচার ও জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ
অনুচ্ছেদ ২৩ মানব পাচার, বেগার এবং অনুরূপ জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করে।
উপ-অনুচ্ছেদ
২৩(১): মানব পাচার, বেগার এবং অন্য ধরনের জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ। এই বিধান লঙ্ঘন করা আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
২৩(২): রাষ্ট্র জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বাধ্যতামূলক পরিষেবা আরোপ করতে পারে। তবে তা করতে গিয়ে শুধু ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা শ্রেণির ভিত্তিতে বৈষম্য করা যাবে না।
ব্যতিক্রম ও ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২৩(২)-এ জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক পরিষেবার সুযোগ রয়েছে।
বাধ্যতামূলক পরিষেবার নামে মানব পাচার বা বেআইনি জবরদস্তিমূলক শ্রমকে বৈধ করা যায় না।
অনুচ্ছেদটি রাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্যক্তিগত শোষণের বিরুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ।
১৫. অনুচ্ছেদ ২৪ — শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ
১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে কারখানা, খনি বা অন্য কোনো বিপজ্জনক কাজে নিযুক্ত করা যাবে না।
মূল বক্তব্য
এই অনুচ্ছেদ ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিপজ্জনক কাজে নিযুক্ত করার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সুরক্ষা দেয়।
শিশু ও কিশোর শ্রম (নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৮৬ এবং তার সংশোধিত বিধানও প্রাসঙ্গিক।
অনুচ্ছেদ ২১A-এর মতো এটিও শিশুর সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু দুটির উদ্দেশ্য আলাদা।
ব্যতিক্রম ও সীমা: অনুচ্ছেদ ২৪-এ কারখানা, খনি ও অন্যান্য বিপজ্জনক কাজে শিশু নিয়োগ নিষিদ্ধ। অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শ্রম আইন পড়তে হবে।
১৬. অনুচ্ছেদ ২৫ — বিবেক ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা
সকল ব্যক্তি বিবেকের স্বাধীনতা এবং ধর্ম স্বাধীনভাবে স্বীকার, পালন ও প্রচারের অধিকার পান।
উপ-অনুচ্ছেদ
২৫(১): জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা, স্বাস্থ্য এবং Part III-এর অন্যান্য বিধানের অধীনে ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রযোজ্য।
২৫(২): রাষ্ট্র আইন করে—
ধর্মীয় আচরণের সঙ্গে যুক্ত অর্থনৈতিক, আর্থিক, রাজনৈতিক বা অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
সামাজিক কল্যাণ ও সংস্কারের জন্য আইন করতে পারে।
হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি সকল শ্রেণি ও বিভাগের হিন্দুদের জন্য উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করতে পারে।
অনুচ্ছেদ ২৫-এর ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২৫-এর ব্যাখ্যা I অনুসারে, শিখ ধর্মের উল্লেখিত কৃপাণ বহন ও ধারণের বিষয়টি ধর্ম পালনের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা II-তে অনুচ্ছেদ ২৫(২)(b)-এর প্রসঙ্গে হিন্দু উল্লেখের মধ্যে শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরও অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হয়েছে।
ব্যতিক্রম: ধর্মীয় স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ নয়। জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সংস্কার ও অন্যান্য মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা প্রয়োগ করতে হয়।
১৭. অনুচ্ছেদ ২৬ — ধর্মীয় বিষয় পরিচালনার স্বাধীনতা
প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায় বা তার কোনো অংশ জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যের অধীনে নিম্নলিখিত অধিকার পায়।
ধারা | অধিকার |
|---|---|
২৬(ক) | ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ। |
২৬(খ) | ধর্মীয় বিষয়ে নিজস্ব কার্যাবলি পরিচালনা। |
২৬(গ) | স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও মালিকানা রাখা। |
২৬(ঘ) | আইন অনুসারে সেই সম্পত্তির প্রশাসন পরিচালনা। |
ব্যতিক্রম ও সীমা
এই অধিকার জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যের অধীন।
ধর্মীয় বিষয়ের স্বাধীনতা থাকলেও সম্পত্তির প্রশাসন ও ধর্মনিরপেক্ষ কার্যকলাপ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
অনুচ্ছেদ ২৫ ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত; অনুচ্ছেদ ২৬ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অধিকারকে কেন্দ্র করে।
১৮. অনুচ্ছেদ ২৭ — নির্দিষ্ট ধর্মের প্রচারের জন্য কর দিতে বাধ্য না করা
কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রচার বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দ করা কর দিতে কোনো ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাবে না।
মূল বক্তব্য
রাষ্ট্র নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রচার করার জন্য কর আরোপ করতে পারে না।
অনুচ্ছেদটি সব ধরনের সরকারি ব্যয় বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রত্যেক অর্থপ্রদান নিষিদ্ধ করে না।
কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন বা সাধারণ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয়ের বৈধতা নির্ধারণে উদ্দেশ্য, আইনি ভিত্তি ও বাস্তব পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যতিক্রম ও সীমা: সাধারণ রাজস্ব থেকে বৈধ জনকল্যাণমূলক ব্যয় এবং নির্দিষ্ট ধর্মের প্রচার বা রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে আরোপিত কর এক বিষয় নয়।
১৯. অনুচ্ছেদ ২৮ — শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা
এই অনুচ্ছেদ সরকারি অর্থায়নপ্রাপ্ত এবং সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বা সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা ও উপাসনায় অংশগ্রহণের নিয়ম নির্ধারণ করে।
ধারা | বিধান |
|---|---|
২৮(১) | সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না। |
২৮(২) | রাষ্ট্র পরিচালিত হলেও কোনো দান বা ট্রাস্টের শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান হলে ২৮(১)-এর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। |
২৮(৩) | রাষ্ট্রের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ব্যক্তিকে ধর্মীয় শিক্ষা বা উপাসনায় অংশ নিতে বাধ্য করা যাবে না; অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে অভিভাবকের সম্মতি প্রয়োজন। |
ব্যতিক্রম
২৮(১)-এর ব্যতিক্রম হলো রাষ্ট্র পরিচালিত হলেও দান বা ট্রাস্টের শর্ত অনুযায়ী ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রেখে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—অনুচ্ছেদ ২৮(২)-এর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে।
পরীক্ষায় মনে রাখবে: ২৮(১) সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে; ২৮(৩) স্বীকৃত বা সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
২০. অনুচ্ছেদ ২৯ — ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতির সুরক্ষা
অনুচ্ছেদ ২৯ ভারতের নাগরিকদের নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার দেয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ করে।
উপ-অনুচ্ছেদ
২৯(১): ভারতের ভূখণ্ডে বসবাসকারী নাগরিকদের কোনো অংশের নিজস্ব ভাষা, লিপি বা সংস্কৃতি থাকলে তারা তা সংরক্ষণের অধিকারী।
২৯(২): রাষ্ট্র পরিচালিত বা রাষ্ট্রের সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো নাগরিককে শুধু ধর্ম, জাতি, বর্ণ, ভাষা বা এদের মধ্যে কোনো একটির ভিত্তিতে ভর্তির অযোগ্য করা যাবে না।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা
২৯(১)-এর অধিকার শুধু সংখ্যালঘুদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; স্বতন্ত্র ভাষা, লিপি বা সংস্কৃতিসম্পন্ন নাগরিকদের যেকোনো অংশ এর সুরক্ষা পেতে পারে।
২৯(২) ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। এখানে অনুচ্ছেদ ১৫(১)-এর মতো ‘জন্মস্থান’ বা ‘লিঙ্গ’ শব্দ নেই।
অনুচ্ছেদ ২৯(২)-এর সুরক্ষা নাগরিকদের জন্য।
পরীক্ষার ফাঁদ: অনুচ্ছেদ ২৯ কেবল সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক অধিকার নয়; বিশেষত ২৯(২) নাগরিকদের ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষা দেয়।
২১. অনুচ্ছেদ ৩০ — সংখ্যালঘুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার অধিকার
ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে।
উপ-অনুচ্ছেদ
ধারা | বিধান |
|---|---|
৩০(১) | ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের নিজস্ব পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার অধিকার। |
৩০(১A) | সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি অধিগ্রহণের আইন এমন হতে হবে যাতে অনুচ্ছেদ ৩০(১)-এর অধিকার সীমিত বা বাতিল না হয়। |
৩০(২) | রাষ্ট্র সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংখ্যালঘুদের পরিচালনাধীন বলে তার বিরুদ্ধে বৈষম্য করতে পারবে না। |
ব্যতিক্রম ও সীমা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার থাকলেও শিক্ষার মান, শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও অন্যান্য বৈধ নিয়ন্ত্রণের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের অধিকার মানে সমস্ত সাধারণ আইন থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি নয়।
অনুচ্ছেদ ৩০(১A)-তে সম্পত্তি অধিগ্রহণের বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ২৯ বনাম ৩০: ২৯ ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং ভর্তির বৈষম্য নিষিদ্ধ করার সঙ্গে সম্পর্কিত; ৩০ সংখ্যালঘুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার বিশেষ অধিকার দেয়।
২২. অনুচ্ছেদ ৩১ — সম্পত্তির অধিকার: বিলুপ্ত বিধান
অনুচ্ছেদ ৩১ মূলত সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিরুদ্ধে মৌলিক অধিকারসংক্রান্ত সুরক্ষা দিত। ৪৪তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ১৯৭৮-এর মাধ্যমে এটি বিলুপ্ত হয়।
বর্তমানে সম্পত্তির অধিকার অনুচ্ছেদ ৩০০A-এর অধীনে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত।
পরীক্ষার তথ্য: সম্পত্তির অধিকার বর্তমানে মৌলিক অধিকার নয়; কিন্তু তাই বলে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য কোনো আইনি ভিত্তির প্রয়োজন নেই। অনুচ্ছেদ ৩০০A অনুযায়ী, আইনের কর্তৃত্ব ছাড়া কাউকে তাঁর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
২৩. অনুচ্ছেদ ৩১A — নির্দিষ্ট আইনকে মৌলিক অধিকারভিত্তিক চ্যালেঞ্জ থেকে সুরক্ষা
অনুচ্ছেদ ৩১A নির্দিষ্ট ধরনের আইনকে অনুচ্ছেদ ১৪ ও ১৯-এর ভিত্তিতে অসাংবিধানিক ঘোষণার বিরুদ্ধে বিশেষ সুরক্ষা দেয়।
কোন ধরনের আইন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?
সম্পত্তি বা এস্টেট অধিগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট অধিকার পরিবর্তন।
নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা রাষ্ট্রের হাতে নেওয়া।
কর্পোরেশনগুলির সংযুক্তি বা নির্দিষ্ট ধরনের অধিকার পরিবর্তন।
খনিজ বা খনিজ তেলসংক্রান্ত নির্দিষ্ট অধিকার পরিবর্তন।
কৃষি ও ভূমি সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট বিধান।
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
অনুচ্ছেদ ৩১A-এর সুরক্ষা শর্তসাপেক্ষ। এর উপ-অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে, এবং কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আইন ও রাষ্ট্রপতির সম্মতির মতো শর্ত প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
পরীক্ষার ফাঁদ: ৩১A সব আইনকে সুরক্ষা দেয় না। শুধু অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট শ্রেণির আইন ও প্রযোজ্য সাংবিধানিক শর্তের মধ্যে সুরক্ষা প্রযোজ্য।
২৪. অনুচ্ছেদ ৩১B — নবম তফসিলের আইন
অনুচ্ছেদ ৩১B নবম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট আইন ও বিধানকে বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
মূল বক্তব্য
নবম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত আইনগুলিকে Part III-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যের কারণে অকার্যকর হওয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই অনুচ্ছেদ তৈরি হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ সীমা
I.R. Coelho v. State of Tamil Nadu (2007) মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে যে ২৪ এপ্রিল ১৯৭৩-এর পর নবম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত আইনও মৌলিক কাঠামোর ভিত্তিতে বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।
অর্থাৎ, নবম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হলেই কোনো আইন সব ধরনের সাংবিধানিক পর্যালোচনা থেকে চিরস্থায়ীভাবে মুক্ত হয় না।
পরীক্ষার তথ্য: নবম তফসিল প্রথম সংবিধান সংশোধনী আইন, ১৯৫১-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়।
২৫. অনুচ্ছেদ ৩১C — নির্দিষ্ট নির্দেশমূলক নীতি বাস্তবায়নের আইন
অনুচ্ছেদ ৩১C নির্দিষ্ট নির্দেশমূলক নীতি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তৈরি আইনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করে।
মূল বিধান
অনুচ্ছেদ ৩৯(b) ও ৩৯(c)-এর নীতিগুলি বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত আইনকে অনুচ্ছেদ ১৪ ও ১৯-এর ভিত্তিতে চ্যালেঞ্জ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, নির্দিষ্ট সাংবিধানিক শর্তসাপেক্ষে।
৩৯(b): সমাজের বস্তুগত সম্পদের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ এমনভাবে বণ্টিত হওয়া যাতে তা সাধারণ কল্যাণে সহায়ক হয়।
৩৯(c): অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলে সম্পদ ও উৎপাদনের উপায় অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়।
গুরুত্বপূর্ণ মামলা
Minerva Mills v. Union of India (1980): অনুচ্ছেদ ৩১C-কে সব নির্দেশমূলক নীতির ক্ষেত্রে প্রসারিত করার ৪২তম সংশোধনীর প্রচেষ্টা অসাংবিধানিক বলে ঘোষিত হয়। ফলে বর্তমান সাংবিধানিক অবস্থায় ৩১C-এর সুরক্ষা ৩৯(b) ও ৩৯(c)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
পরীক্ষার ফাঁদ: ৩১C সব নির্দেশমূলক নীতির জন্য সমান সুরক্ষা দেয় না; ৩৯(b) ও ৩৯(c) বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
২৬. অনুচ্ছেদ ৩১D — বিলুপ্ত বিধান
অনুচ্ছেদ ৩১D রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট আইনকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যুক্ত হয়েছিল। ৪৩তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ১৯৭৭-এর মাধ্যমে এটি বিলুপ্ত হয়।
পরীক্ষায় মনে রাখবে: অনুচ্ছেদ ৩১D বর্তমানে কার্যকর নয়। পুরোনো বইয়ে বা পুরোনো সংবিধান সংস্করণে এটি দেখা যেতে পারে।
২৭. অনুচ্ছেদ ৩২ — সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার
অনুচ্ছেদ ৩২ মৌলিক অধিকার কার্যকর করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে। ড. বি. আর. আম্বেদকর এই অধিকারকে সংবিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।
উপ-অনুচ্ছেদগুলির বিশ্লেষণ
ধারা | বিধান |
|---|---|
৩২(১) | Part III-তে প্রদত্ত অধিকার কার্যকর করতে উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত। |
৩২(২) | মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ, আদেশ ও পাঁচ ধরনের রিট জারি করতে পারে। |
৩২(৩) | সংসদ আইন করে অন্য আদালতকে নির্দিষ্ট স্থানীয় সীমার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ৩২(২)-এর কিছু ক্ষমতা দিতে পারে। |
৩২(৪) | সংবিধানে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া এই অনুচ্ছেদের অধিকার স্থগিত করা যাবে না। |
অনুচ্ছেদ ৩২-এর সীমা
অনুচ্ছেদ ৩২ মূলত মৌলিক অধিকার কার্যকর করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
প্রতিটি সাধারণ আইনগত বিরোধ সরাসরি অনুচ্ছেদ ৩২-এর মামলা হয়ে যায় না।
অনুচ্ছেদ ৩২(৪)-এর ভাষা জরুরি অবস্থার সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে পড়তে হয়। অনুচ্ছেদ ৩৫৯ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য আদালতে যাওয়ার অধিকার স্থগিত হতে পারে; তবে অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১-এর ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ২২৬-এর অধীনে হাইকোর্টের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত: মৌলিক অধিকার ছাড়াও অন্যান্য আইনগত অধিকার বলবৎ করার জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্রে রিট জারি করা যায়।
মনে রাখবে: অনুচ্ছেদ ৩২ নিজেই একটি মৌলিক অধিকার।
২৮. পাঁচটি সাংবিধানিক রিট (Five Writs)
ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ ও ২২৬-এর অধীনে পাঁচ ধরনের রিটের ব্যবস্থা রয়েছে। ল্যাটিন নামগুলি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
১. Habeas Corpus — বন্দি-প্রত্যক্ষীকরণ
অর্থ: আটক ব্যক্তিকে আদালতের সামনে হাজির করো।
কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হলে আদালত আটক ব্যক্তিকে হাজির করতে এবং আটকের বৈধতা পরীক্ষা করতে নির্দেশ দিতে পারে।
উদাহরণ: আইনসম্মত ভিত্তি ছাড়া কাউকে আটক রাখা হলে তাঁর মুক্তির জন্য উপযুক্ত রিট আবেদন করা যেতে পারে।
২. Mandamus — পরমাদেশ
অর্থ: কর্তব্য পালনের নির্দেশ।
কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা আইনগত কর্তব্যসম্পন্ন সংস্থা তার আইনগত দায়িত্ব পালন না করলে আদালত তাকে সেই কর্তব্য পালনের নির্দেশ দিতে পারে।
উদাহরণ: আইন অনুযায়ী বিবেচনা করার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোনো আবেদন বিবেচনা করছে না।
সীমা: সাধারণত ব্যক্তিগত চুক্তিগত দায়িত্ব পালনের জন্য Mandamus জারি হয় না; তবে আইনগত জনকর্তব্যের প্রশ্ন থাকলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।
৩. Prohibition — প্রতিষেধ
অর্থ: এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ।
নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল তার এখতিয়ারের বাইরে কোনো বিচারিক বা আধা-বিচারিক কার্যক্রম চালালে উচ্চ আদালত তাকে সেই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নিষেধ করতে পারে।
উদাহরণ: কোনো ট্রাইব্যুনাল এমন বিষয়ে শুনানি করছে, যা বিচার করার আইনি ক্ষমতা তার নেই।
৪. Certiorari — উৎপ্রেষণ
অর্থ: নিম্ন কর্তৃপক্ষের আদেশ পর্যালোচনা করে বাতিল করা।
নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের আদেশে এখতিয়ারগত ত্রুটি, আইনগত ভুল বা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের গুরুতর লঙ্ঘন থাকলে উপযুক্ত ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত সেই আদেশ বাতিল করতে পারে।
উদাহরণ: কোনো ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দিয়েই আইনবিরুদ্ধ আদেশ দিয়েছে।
৫. Quo Warranto — অধিকার-পৃচ্ছা
অর্থ: কোন অধিকারে সরকারি পদে রয়েছেন?
কোনো ব্যক্তি আইনগত যোগ্যতা ছাড়া সরকারি বা জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ আইনসৃষ্ট পদে অধিষ্ঠিত থাকলে আদালত তাঁর পদে থাকার বৈধতা পরীক্ষা করতে পারে।
উদাহরণ: আইন নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ না করেও কেউ একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি পদে নিযুক্ত হয়েছেন।
২৯. পাঁচটি রিটের পার্থক্য: পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ টেবিল
রিট | প্রধান উদ্দেশ্য | কখন প্রয়োগ হয়? | মূল বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
Habeas Corpus | বেআইনি আটক থেকে মুক্তির প্রতিকার | ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হলে | আটক ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষা |
Mandamus | আইনগত কর্তব্য পালনের নির্দেশ | কর্তৃপক্ষ আইনগত দায়িত্ব পালন না করলে | কর্তব্য পালনে বাধ্য করা |
Prohibition | বেআইনি বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ করা | নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলাকালে | প্রতিরোধমূলক |
Certiorari | ত্রুটিপূর্ণ আদেশ বাতিল করা | নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের আদেশে আইনগত ত্রুটি থাকলে | আদেশ পর্যালোচনা ও বাতিল |
Quo Warranto | জনপদে অধিষ্ঠিত থাকার বৈধতা পরীক্ষা | কোনো ব্যক্তি আইনগত যোগ্যতা ছাড়া পদে থাকলে | পদে থাকার অধিকার যাচাই |
Prohibition বনাম Certiorari
এই পার্থক্যটি WBCS ও UPSC-তে প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ।
Prohibition: সাধারণত নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনালকে এখতিয়ারবহির্ভূত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখে।
Certiorari: উপযুক্ত ক্ষেত্রে নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের ইতিমধ্যে দেওয়া আদেশ বাতিল করতে পারে।
তবে আধুনিক বিচারব্যবস্থায় এই পার্থক্যটি কেবল “আদেশের আগে” ও “আদেশের পরে” দিয়ে সব সময় নির্ধারিত হয় না; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকৃতি, আদেশের ধরন ও বিচারিক পর্যালোচনার শর্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুচ্ছেদ ৩২ বনাম ২২৬
বিষয় | অনুচ্ছেদ ৩২ | অনুচ্ছেদ ২২৬ |
|---|---|---|
আদালত | সুপ্রিম কোর্ট | হাইকোর্ট |
উদ্দেশ্য | মৌলিক অধিকার কার্যকর করা | মৌলিক অধিকার ও অন্যান্য আইনগত অধিকার কার্যকর করা |
প্রকৃতি | নিজেই মৌলিক অধিকার | সাংবিধানিক ক্ষমতা |
পরিধি | Part III-এর অধিকার বলবৎ করা | মৌলিক অধিকারসহ অন্যান্য আইনগত উদ্দেশ্য |
বিচারিক বিবেচনা | সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার নিশ্চিত | প্রতিকারের পরিধি বিস্তৃত হলেও আদালত উপযুক্ততা ও অন্যান্য আইনগত নীতি বিবেচনা করে |
অনুচ্ছেদ ৩২ ও ২২৬-এর মূল পাঠ যথাক্রমে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রিট-ক্ষমতার পরিধি বুঝতে সহায়ক।
৩০. জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার: গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম
মৌলিক অধিকার পড়ার সময় জরুরি অবস্থার বিধান না জানলে উত্তর অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
অনুচ্ছেদ | বিধান | গুরুত্বপূর্ণ সীমা |
|---|---|---|
৩৫২ | জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান | ঘোষণার সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করতে হয়। |
৩৫৮ | জাতীয় জরুরি অবস্থায় অনুচ্ছেদ ১৯-এর প্রয়োগের বিশেষ বিধান | বর্তমানে শুধু যুদ্ধ বা বহিঃআক্রমণের ভিত্তিতে ঘোষিত জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক শর্তও মানতে হয়। |
৩৫৯ | নির্দিষ্ট মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য আদালতে যাওয়ার অধিকার স্থগিতের ব্যবস্থা | রাষ্ট্রপতির আদেশে নির্দিষ্ট অধিকার ও সময়সীমা উল্লেখ থাকতে হয়; অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১-এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। |
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষিত হলেই সব মৌলিক অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয় না। অনুচ্ছেদ ৩৫৮ ও ৩৫৯-এর আলাদা শর্ত রয়েছে। বিশেষ করে অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১-এর সুরক্ষা ৪৪তম সংশোধনীর পর বিশেষভাবে সংরক্ষিত হয়েছে।
৩১. দ্রুত পুনরালোচনা: অনুচ্ছেদ ১২–৩২
অনুচ্ছেদ | এক লাইনে বিষয় |
|---|---|
১২ | রাষ্ট্রের সংজ্ঞা |
১৩ | মৌলিক অধিকারের বিরোধী আইন |
১৪ | আইনের দৃষ্টিতে সমতা |
১৫ | নির্দিষ্ট ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ |
১৬ | সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা |
১৭ | অস্পৃশ্যতার বিলোপ |
১৮ | উপাধি বিলোপ |
১৯ | ছয়টি স্বাধীনতা |
২০ | অপরাধে দণ্ডদানের ক্ষেত্রে তিনটি সুরক্ষা |
২১ | জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা |
২১A | ৬–১৪ বছর বয়সীদের শিক্ষার অধিকার |
২২ | গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে সুরক্ষা |
২৩ | মানব পাচার ও জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ |
২৪ | ১৪ বছরের কম বয়সীদের বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ |
২৫ | বিবেক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা |
২৬ | ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিষয় পরিচালনা |
২৭ | নির্দিষ্ট ধর্মের প্রচারের জন্য কর দিতে বাধ্য না করা |
২৮ | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষার বিধান |
২৯ | ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতির সুরক্ষা; ভর্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ |
৩০ | সংখ্যালঘুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা |
৩১ | সম্পত্তি-সংক্রান্ত পুরোনো মৌলিক অধিকার বিলুপ্ত |
৩১A | নির্দিষ্ট শ্রেণির আইনকে বিশেষ সুরক্ষা |
৩১B | নবম তফসিলের আইন |
৩১C | অনুচ্ছেদ ৩৯(b) ও ৩৯(c) বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট আইন |
৩১D | বিলুপ্ত বিধান |
৩২ | সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার |
৩২. পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে মনে রাখবে
1. অনুচ্ছেদ ১৪: নাগরিক ও বিদেশি উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।
2. অনুচ্ছেদ ১৯: কেবল নাগরিকদের জন্য।
3. অনুচ্ছেদ ২০ ও ২১: নাগরিক ও বিদেশি উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।
4. অনুচ্ছেদ ২১A: ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের শিক্ষা।
5. অনুচ্ছেদ ৩২: মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার।
6. অনুচ্ছেদ ২২৬: হাইকোর্ট মৌলিক অধিকার ছাড়াও অন্যান্য আইনগত অধিকার বলবৎ করতে রিট দিতে পারে।
7. অনুচ্ছেদ ৩১: বর্তমানে কার্যকর মৌলিক অধিকার নয়; সম্পত্তির অধিকার অনুচ্ছেদ ৩০০A-এর অধীনে সাংবিধানিক অধিকার।
8. অনুচ্ছেদ ৩১C: এর বর্তমান সুরক্ষা অনুচ্ছেদ ৩৯(b) ও ৩৯(c)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত; সব নির্দেশমূলক নীতির জন্য নয়।
9. অনুচ্ছেদ ৩৫৮ ও ৩৫৯: জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকারসংক্রান্ত দুটি পৃথক বিধান; এক করে দেখা যাবে না।
10. পাঁচটি রিট: Habeas Corpus, Mandamus, Prohibition, Certiorari ও Quo Warranto।
ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (Part III) মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ ১২ থেকে ৩৫ রয়েছে। এর মধ্যে অনুচ্ছেদ ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৌলিক অধিকারের প্রয়োগ, সামরিক আইন চলাকালীন সুরক্ষা এবং মৌলিক অধিকার কার্যকর করার জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নির্ধারণ করে।
একটি বিষয় মনে রাখতে হবে: অনুচ্ছেদ ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নিজেরা নতুন কোনো মৌলিক অধিকার তৈরি করে না; বরং মৌলিক অধিকার কীভাবে প্রয়োগ হবে এবং কোন কর্তৃপক্ষ কী ধরনের আইন করতে পারবে, সেই কাঠামো নির্ধারণ করে।
অনুচ্ছেদ ৩৩ — সশস্ত্র বাহিনী ও নির্দিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের মৌলিক অধিকার সীমিত করার ক্ষমতা
মূল বিষয়: সংসদ আইন করে নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তির মৌলিক অধিকার সীমিত বা বাতিল করতে পারে, যাতে তাঁদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা যায় এবং শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সামরিক বা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অধিকার সব ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ করা হয় না। তাঁদের দায়িত্বের বিশেষ প্রকৃতির কারণে সংবিধান সংসদকে সীমিত করার ক্ষমতা দিয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৩-এর মূল পাঠের কাঠামো
অনুচ্ছেদ ৩৩-এ আলাদা করে ৩৩(১), ৩৩(২) ধরনের উপ-অনুচ্ছেদ নেই। এটি একটি অনুচ্ছেদ, যার মধ্যে একাধিক শ্রেণির বাহিনী বা সদস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সংসদ আইন করে এই শ্রেণিগুলির সদস্যদের মৌলিক অধিকার কতটা সীমিত বা বাতিল হবে, তা নির্ধারণ করতে পারে।
কোন কোন শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
1. সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য (Members of the Armed Forces)।
2. জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্য (Forces charged with the maintenance of public order)।
3. গোয়েন্দা সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট সংস্থায় নিযুক্ত ব্যক্তিরা, যাদের কাজের বিশেষ প্রকৃতি রয়েছে।
4. অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বাহিনী, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিযুক্ত নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিরা।
কেন মৌলিক অধিকার সীমিত করা যায়?
সামরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
বাহিনীর মধ্যে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করা।
গোপনীয় তথ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা।
দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন নির্দিষ্ট কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
বাহিনীর কার্যক্ষমতা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৩৩-এর ক্ষমতা সংসদের। কোনো কর্তৃপক্ষ কেবল নিজের ইচ্ছায় মৌলিক অধিকার সীমিত করতে পারে না; তার জন্য প্রযোজ্য আইনগত ক্ষমতা ও বিধান থাকতে হবে।
এই অনুচ্ছেদ অনুসারে তৈরি আইন সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মৌলিক অধিকার কতটা সীমিত করবে, তা নির্দিষ্ট আইন ও তার প্রয়োগের ভিত্তিতে বিচার করতে হয়।
ব্যতিক্রম ও সীমা: অনুচ্ছেদ ৩৩ সব সরকারি কর্মচারী বা সব পুলিশকর্মীর মৌলিক অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না। কোন ব্যক্তি বা বাহিনী এর আওতায় পড়বেন এবং কোন অধিকার কতটা সীমিত হবে, তা সংবিধান ও প্রযোজ্য সংসদীয় আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
অনুচ্ছেদ ৩৪ — সামরিক আইন চলাকালীন মৌলিক অধিকারের উপর বিধিনিষেধ
Restriction on rights conferred by Part III while martial law is in force in any area.
অনুচ্ছেদ ৩৪ এমন পরিস্থিতির কথা বলে, যখন ভারতের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে সামরিক আইন (Martial Law) কার্যকর থাকে। ওই অঞ্চলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা বা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য গৃহীত নির্দিষ্ট পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সংসদ আইন করে বিশেষ আইনি সুরক্ষা দিতে পারে।
অনুচ্ছেদ ৩৪-এর মূল বিধান
অনুচ্ছেদ ৩৪-এ আলাদা কোনো উপ-অনুচ্ছেদ নেই। এর মূল বক্তব্যে সংসদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।
১. Indemnity বা আইনি দায়মুক্তি প্রদান
সংসদ আইন করে ইউনিয়ন বা রাজ্যের চাকরিতে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে সামরিক আইন কার্যকর থাকা অঞ্চলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা বা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট কাজের জন্য আইনি দায়মুক্তি দিতে পারে।
২. নির্দিষ্ট আদেশ বা পদক্ষেপকে বৈধতা প্রদান
সংসদ আইন করে সামরিক আইনের অধীনে ওই অঞ্চলে—
প্রদত্ত নির্দিষ্ট দণ্ডাদেশ (Sentence)।
আরোপিত শাস্তি (Punishment)।
আদেশ করা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ (Forfeiture)।
গৃহীত অন্যান্য পদক্ষেপ (Other Acts)।
বৈধতা দিতে পারে।
এই ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য সংসদের আইন প্রয়োজন। শুধু সামরিক আইন কার্যকর হলেই সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির সব কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না।
Martial Law বলতে কী বোঝায়?
Martial Law বা সামরিক আইন বলতে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো অঞ্চলে স্বাভাবিক বেসামরিক প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার কার্যক্রমের উপর সামরিক কর্তৃপক্ষের বিশেষ নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপের পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়।
এটিকে জাতীয় জরুরি অবস্থার (National Emergency) সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।
Martial Law ও National Emergency-এর পার্থক্য
বিষয় | Martial Law — সামরিক আইন | National Emergency — জাতীয় জরুরি অবস্থা |
|---|---|---|
সাংবিধানিক ভিত্তি | অনুচ্ছেদ ৩৪-এ উল্লেখ রয়েছে | অনুচ্ছেদ ৩৫২ |
প্রয়োগের ক্ষেত্র | নির্দিষ্ট অঞ্চল | সাংবিধানিক ঘোষণার শর্ত অনুসারে সমগ্র ভারত বা তার কোনো অংশ |
মূল উদ্দেশ্য | নির্দিষ্ট অঞ্চলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা বা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিশেষ পরিস্থিতি | যুদ্ধ, বহিঃআক্রমণ বা সশস্ত্র বিদ্রোহের কারণে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা |
মৌলিক অধিকারের প্রভাব | অনুচ্ছেদ ৩৪ সংসদকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপের জন্য আইনি সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা দেয় | অনুচ্ছেদ ৩৫৮ ও ৩৫৯-এর পৃথক বিধান প্রযোজ্য হতে পারে |
স্বয়ংক্রিয় ফলাফল | সব পদক্ষেপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয় না | সব মৌলিক অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয় না |
অনুচ্ছেদ ৩৪-এর ব্যতিক্রম ও সীমা
অনুচ্ছেদ ৩৪ নিজে সামরিক আইন ঘোষণার বিস্তারিত পদ্ধতি নির্ধারণ করে না।
এই অনুচ্ছেদে সংসদের আইন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে; এটি কোনো ব্যক্তিকে নিজের ইচ্ছায় সীমাহীন ক্ষমতা ব্যবহারের অনুমতি দেয় না।
সামরিক আইন ও জাতীয় জরুরি অবস্থা পৃথক সাংবিধানিক ধারণা।
সামরিক আইন চলাকালীন গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপকে বিচারিক পর্যালোচনার বাইরে বলে ধরে নেওয়া ভুল।
পরীক্ষায় মনে রাখবে: অনুচ্ছেদ ৩৪ = সামরিক আইন কার্যকর থাকা অঞ্চলে নির্দিষ্ট কাজের জন্য সংসদের আইনি দায়মুক্তি প্রদান ও পদক্ষেপ বৈধতা দেওয়ার ক্ষমতা।
অনুচ্ছেদ ৩৫ — মৌলিক অধিকার কার্যকর করার জন্য আইন প্রণয়নের ক্ষমতা
Legislation to give effect to the provisions of this Part.
অনুচ্ছেদ ৩৫ নির্ধারণ করে, Part III-এর কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় এবং মৌলিক অধিকার-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট অপরাধের শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে।
এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে আইনি কাঠামো বজায় রাখা এবং রাজ্যগুলির পৃথক আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সীমিত করা।
অনুচ্ছেদ ৩৫-এর উপ-অনুচ্ছেদ ও উপধারা
অনুচ্ছেদ ৩৫-এ দুটি প্রধান অংশ রয়েছে—৩৫(a) ও ৩৫(b)। এর পাশাপাশি একটি Explanation বা ব্যাখ্যামূলক বিধান রয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৫(a)(i)
এই অংশ অনুসারে, অনুচ্ছেদ ১৬(৩), ৩২(৩), ৩৩ ও ৩৪-এ উল্লিখিত বিষয়গুলির ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে; রাজ্য আইনসভার হাতে নয়।
উদাহরণ:
অনুচ্ছেদ ১৬(৩): নির্দিষ্ট সরকারি চাকরিতে বাসস্থানের শর্ত।
অনুচ্ছেদ ৩২(৩): নির্দিষ্ট ক্ষমতা অন্য আদালতকে দেওয়ার বিষয়ে আইন।
অনুচ্ছেদ ৩৩: নির্দিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের মৌলিক অধিকার সীমিত করা।
অনুচ্ছেদ ৩৪: সামরিক আইন চলাকালীন নির্দিষ্ট কাজের জন্য আইনি সুরক্ষা।
অনুচ্ছেদ ৩৫(a)(ii)
Part III-তে যেসব কাজকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলির জন্য শাস্তি নির্ধারণের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে।
সংসদকে এই ধরনের অপরাধের শাস্তি নির্ধারণের জন্য আইন প্রণয়নের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ: অস্পৃশ্যতার চর্চা বা মানব পাচারের মতো সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ কাজের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন ও শাস্তির কাঠামো।
অনুচ্ছেদ ৩৫(b)
সংবিধান কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে ভারতে প্রচলিত সংশ্লিষ্ট আইনগুলি নির্ধারিত শর্তে কার্যকর থাকতে পারে, যতক্ষণ না সংসদ সেগুলিকে পরিবর্তন, বাতিল বা সংশোধন করে।
এর উদ্দেশ্য ছিল নতুন সংবিধান কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পুরোনো আইনকে একযোগে অকার্যকর হয়ে যেতে না দেওয়া।
Explanation — ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৩৫-এ ‘law in force’ বা ‘প্রচলিত আইন’ শব্দবন্ধটির অর্থ অনুচ্ছেদ ৩৭২-এ ব্যবহৃত একই শব্দবন্ধের অর্থ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
উপরের বিধানগুলি সংবিধানের সরকারি পাঠের ভিত্তিতে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৫-এর ব্যতিক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ সীমা
1. অনুচ্ছেদ ৩৫ সব বিষয়েই সংসদকে একমাত্র আইন প্রণয়নকারী করে না। এটি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখিত বিষয়গুলিতে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা নির্ধারণ করে।
2. রাজ্য আইনসভা সাধারণভাবে তার সাংবিধানিক আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে; তবে অনুচ্ছেদ ৩৫(a)-এর অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট বিষয়ে ব্যতিক্রম রয়েছে।
3. অনুচ্ছেদ ৩৫(b)-এর অধীনে পুরোনো আইন অনির্দিষ্টকালের জন্য অপরিবর্তনীয় নয়। সংসদ তা সংশোধন, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে।
4. অনুচ্ছেদ ৩৫-এর অধীনে আইন প্রণয়ন করা হলেও সেই আইনকে সংবিধানের অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান মেনে চলতে হয়।
পরীক্ষার ফাঁদ: অনুচ্ছেদ ৩৫-এর ক্ষেত্রে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতার প্রশ্নটি শুধু ৩৫(a)-তে নির্দিষ্ট বিষয়গুলির জন্য প্রযোজ্য; সব ধরনের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নয়।
অনুচ্ছেদ ৩৩, ৩৪ ও ৩৫-এর তুলনামূলক পার্থক্য
তুলনার বিষয় | অনুচ্ছেদ ৩৩ | অনুচ্ছেদ ৩৪ | অনুচ্ছেদ ৩৫ |
|---|---|---|---|
মূল বিষয় | নির্দিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের মৌলিক অধিকার সীমিত বা বাতিল করা | সামরিক আইন চলাকালীন নির্দিষ্ট কাজের জন্য আইনি সুরক্ষা | নির্দিষ্ট মৌলিক অধিকার-সম্পর্কিত বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা |
ক্ষমতা কার হাতে? | সংসদ | সংসদ | নির্দিষ্ট বিষয়ে সংসদ |
প্রয়োগের ক্ষেত্র | সশস্ত্র বাহিনী, জনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট টেলিযোগাযোগ কর্মী | সামরিক আইন কার্যকর থাকা নির্দিষ্ট অঞ্চল | ১৬(৩), ৩২(৩), ৩৩, ৩৪ ও Part III-তে উল্লিখিত নির্দিষ্ট অপরাধের শাস্তি |
প্রধান উদ্দেশ্য | শৃঙ্খলা ও কর্তব্য পালনের উপযোগী ব্যবস্থা | নির্দিষ্ট পদক্ষেপের আইনি বৈধতা ও দায়মুক্তির ব্যবস্থা | আইনি কাঠামো নির্ধারণ ও ক্ষমতার বণ্টন |
বিশেষ সীমা | সব সরকারি কর্মচারীর অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সীমিত হয় না | সব সামরিক পদক্ষেপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয় না | সব বিষয়ে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা নয় |
পরীক্ষার জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
1. অনুচ্ছেদ ৩৩ — মৌলিক অধিকার সীমিত করার ক্ষমতা সংসদের।
2. অনুচ্ছেদ ৩৩-এর বর্তমান পাঠে চারটি শ্রেণির কথা আছে: (a), (b), (c) ও (d)।
3. অনুচ্ছেদ ৩৩-এর বর্তমান পাঠ ৫০তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ১৯৮৪-এর মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হয়।
4. অনুচ্ছেদ ৩৪ — সামরিক আইন কার্যকর থাকা অঞ্চলে নির্দিষ্ট কাজের জন্য সংসদ আইনি দায়মুক্তি দিতে পারে।
5. অনুচ্ছেদ ৩৪-এ আলাদা কোনো নম্বরযুক্ত উপ-অনুচ্ছেদ নেই।
6. অনুচ্ছেদ ৩৫(a)(i) — নির্দিষ্ট বিষয়গুলিতে সংসদের একচ্ছত্র আইন প্রণয়নের ক্ষমতা।
7. অনুচ্ছেদ ৩৫(a)(ii) — Part III-তে অপরাধ হিসেবে ঘোষিত কাজের শাস্তি নির্ধারণের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের।
8. অনুচ্ছেদ ৩৫(b) — সংবিধান কার্যকর হওয়ার আগে প্রচলিত সংশ্লিষ্ট আইনগুলি নির্ধারিত শর্তে বহাল থাকতে পারে।
9. Martial Law এবং National Emergency এক নয়।
10. অনুচ্ছেদ ৩৩, ৩৪ ও ৩৫-কে অনুচ্ছেদ ৩২-এর সঙ্গে মিলিয়ে পড়লে মৌলিক অধিকার, তার সীমা এবং আদালতের মাধ্যমে প্রতিকারের সাংবিধানিক কাঠামো পরিষ্কার হয়।
সম্পাদকীয় নোট: এই আলোচনা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তৈরি। সংবিধানের সুনির্দিষ্ট ভাষা, সর্বশেষ সংশোধনী এবং কোনো নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে সরকারি সংবিধান-পাঠ ও প্রামাণ্য রায় মিলিয়ে পড়বে। আইনের বর্তমান অবস্থান ও ব্যতিক্রম বুঝতে বিশেষভাবে অনুচ্ছেদ ১৩, ১৫, ১৬, ১৯, ২১, ২২, ৩১A–৩১C এবং ৩২ ভালোভাবে অনুশীলন করা উচিত।
Official Editorial PDF Edition
Verified PublicationDownload a clean, high-resolution printable copy complete with tables, formulas, and high-res photography. Free for registered readers.
Community Feedback & Editorial Ratings
All Reader Reviews (0)
No reader reviews yet for this story.
Be the first to share your rating and perspective!














