TOP STORIES
Spiritual•Nov 3

অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।

National Award•Nov 2

দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম

Editorial•Nov 2

ডিজিটাল যুগে মানুষ: যোগাযোগ বেড়েছে, কমেছে কি মানবিক সংযোগ? সময়, প্রযুক্তি ও একাকিত্বের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ

Geo Politics•Nov 1

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?

Sports•Nov 1

৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই

Environment & Ecology•Nov 1

বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?

International•Nov 1

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন

Technology•Oct 26

Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা

Award•Oct 26

ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড

Geo Politics•Oct 25

International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide

Spiritual•Nov 3

অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।

National Award•Nov 2

দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম

Editorial•Nov 2

ডিজিটাল যুগে মানুষ: যোগাযোগ বেড়েছে, কমেছে কি মানবিক সংযোগ? সময়, প্রযুক্তি ও একাকিত্বের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ

Geo Politics•Nov 1

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?

Sports•Nov 1

৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই

Environment & Ecology•Nov 1

বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?

International•Nov 1

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন

Technology•Oct 26

Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা

Award•Oct 26

ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড

Geo Politics•Oct 25

International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide

ডিজিটাল যুগে মানুষ: যোগাযোগ বেড়েছে, কমেছে কি মানবিক সংযোগ? সময়, প্রযুক্তি ও একাকিত্বের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ

চিঠির অপেক্ষা থেকে ভিডিও কল, কয়েক মাসের সমুদ্রযাত্রা থেকে কয়েক ঘণ্টার বিমান—প্রযুক্তি মানুষের দূরত্ব কমিয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্ফোরণের মধ্যেও কেন বাড়ছে সময়ের অভাব, অস্থিরতা ও একাকিত্ব?

Mallika Jana Hatai
November 2, 2026
8:41 AM IST
Share Story:WhatsAppFacebook
ডিজিটাল যুগে মানুষের পরিবর্তিত যোগাযোগব্যবস্থা—একদিকে স্মার্টফোন ও ভিডিও কল, অন্যদিকে মুখোমুখি কথোপকথন, বই পড়া এবং মানবিক সম্পর্কের প্রতীকী চিত্র।
ডিজিটাল যুগে মানুষের পরিবর্তিত যোগাযোগব্যবস্থা—একদিকে স্মার্টফোন ও ভিডিও কল, অন্যদিকে মুখোমুখি কথোপকথন, বই পড়া এবং মানবিক সম্পর্কের প্রতীকী চিত্র।

মানুষ কি কাছাকাছি এসেছে, নাকি আরও দূরে সরে গেছে? ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের বিস্ফোরণ, একাকিত্ব ও হারিয়ে যাওয়া সময়

চিঠির অপেক্ষা থেকে ভিডিও কল, কয়েক মাসের সমুদ্রযাত্রা থেকে কয়েক ঘণ্টার বিমান—যোগাযোগের গতি বেড়েছে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কি সত্যিই গভীর হয়েছে?

১. আমরা এখন পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে পৌঁছে যেতে পারি—কিন্তু মানুষের কাছে পৌঁছতে পারি তো?

একটা সময় ছিল, দূরের কোনও আত্মীয়ের খবর পেতে মানুষকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো। বিদেশে থাকা প্রিয়জনের চিঠি আসতে কয়েক সপ্তাহ, কখনও কয়েক মাস লেগে যেত। কারও সঙ্গে দেখা করতে হলে পথ পেরোতে হতো, সময় বের করতে হতো, শারীরিক পরিশ্রম করতে হতো। মানুষের জীবনে দূরত্ব ছিল বাস্তব—ভৌগোলিক দূরত্ব, যোগাযোগের দূরত্ব এবং অপেক্ষার দূরত্ব।

আজ সেই পৃথিবী অনেকটাই বদলে গেছে।

কলকাতায় বসে কয়েক সেকেন্ডে লন্ডনের মানুষের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলা যায়। দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানে প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রা। অনলাইন মানচিত্র বলে দেয় কোথায় যেতে হবে, অনলাইন মিটিং দূরের সহকর্মীদের এক পর্দায় নিয়ে আসে, ডিজিটাল পেমেন্টে কয়েক মুহূর্তে অর্থ পৌঁছে যায়। পৃথিবীর নানা প্রান্তের বই, বক্তৃতা, সংবাদ, গবেষণা ও শিক্ষার উপকরণ হাতের মোবাইলেই পাওয়া যায়।

প্রযুক্তি আমাদের সামনে এমন এক পৃথিবী খুলে দিয়েছে, যেখানে দূরত্বের অনেক বাধা ভেঙে গেছে।

কিন্তু এর মাঝেই একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠে আসে—যোগাযোগের সুযোগ এত বেড়ে যাওয়ার পরেও মানুষ কেন আরও বেশি একাকিত্ব, অস্থিরতা, অসন্তোষ ও সময়ের অভাব অনুভব করছে?

আমরা কি সত্যিই একে অপরের সঙ্গে বেশি যুক্ত হচ্ছি, নাকি কেবল পর্দার সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ইতিহাস, পরিসংখ্যান, মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং প্রযুক্তির মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব—সবকিছুকে একসঙ্গে দেখতে হবে।

২. চিঠির যুগ: যোগাযোগ ছিল ধীর, কিন্তু অপেক্ষারও ছিল একটি অর্থ

ডিজিটাল যুগের আগে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি, ডাকব্যবস্থা, টেলিগ্রাফ এবং পরে টেলিফোন। আজকের মতো তাৎক্ষণিক যোগাযোগের সুযোগ ছিল না।

ঔপনিবেশিক ভারতের যোগাযোগব্যবস্থার ইতিহাস নিয়ে গবেষণায় দেখা যায়, ১৮২৫ সালে কলকাতা থেকে ইংল্যান্ডের ফালমাউথে ডাক পৌঁছতে প্রায় চার মাস লাগত। ১৮৩০-এর দশকে সুয়েজের স্থলপথ ব্যবহারের ফলে সময় কমে প্রায় সাত সপ্তাহে আসে। ১৮৫২ সালে বোম্বে ও কলকাতা থেকে ইংল্যান্ডে ডাক পৌঁছতে গড়ে ৩৩–৪৪ দিন লাগত। ১৮৬৯ সালে সুয়েজ খাল চালু হওয়া এবং বাষ্পচালিত জাহাজের উন্নতির পর যাত্রার সময় আরও কমে যায়। ১৯১৩ সালের মধ্যে লন্ডন থেকে বোম্বে পর্যন্ত সমুদ্রযাত্রা গড়ে প্রায় ২১ দিনে নামতে পারে।

সূত্র: Reporting the Raj: The British Press and India, c.1880–1922; Manchester University Press-এর প্রকাশিত গবেষণা।

সময়কাল

যোগাযোগ বা যাত্রার মাধ্যম

আনুমানিক সময়

১৮২৫

কলকাতা থেকে ইংল্যান্ডে ডাক

প্রায় ৪ মাস

১৮৩০-এর দশক

সুয়েজের স্থলপথসহ ডাক

প্রায় ৭ সপ্তাহ

১৮৫২

ভারত থেকে ইংল্যান্ডে ডাক

৩৩–৪৪ দিন

১৯১৩

লন্ডন থেকে বোম্বে সমুদ্রযাত্রা

প্রায় ২১ দিন

বর্তমান

দিল্লি–কলকাতা সরাসরি বিমানযাত্রা

প্রায় ২ ঘণ্টা

এই তুলনায় একটি বিষয় স্পষ্ট: যোগাযোগ ও যাতায়াতের সময় নাটকীয়ভাবে কমেছে। তবে এই সময়গুলি ভিন্ন ধরনের যাত্রা ও পরিষেবার তুলনা—একটিকে অন্যটির সঙ্গে পুরোপুরি সমতুল্য বলা যায় না।

আগে একটি চিঠি লেখার আগে মানুষ ভাবত—কী লিখব, কীভাবে লিখব, কোন কথাটি জানানো জরুরি? চিঠি পৌঁছতে সময় লাগত, উত্তর আসত আরও পরে। ফলে কথার মধ্যে থাকত প্রস্তুতি, ধৈর্য ও অপেক্ষা।

আজ একটি মেসেজ পাঠাতে কয়েক সেকেন্ড লাগে। কিন্তু সেই দ্রুততার কারণে আমরা কি কথার গুরুত্বও কমিয়ে ফেলছি?

৩. স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: সরাসরি যোগাযোগের শক্তি

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মানুষের সঙ্গে মানুষের সরাসরি সম্পর্ক, ব্যক্তিগত আলাপ, সভা, চিঠিপত্র এবং দীর্ঘ ভ্রমণ বহু মহান চিন্তাবিদ ও নেতার কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

স্বামী বিবেকানন্দ: মানুষের কাছে পৌঁছনোর এক জীবনব্যাপী প্রচেষ্টা

স্বামী বিবেকানন্দের জীবন কেবল বক্তৃতা বা দর্শনের ইতিহাস নয়; এটি মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ইতিহাসও। ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করে তিনি সমাজের নানা স্তরের মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, শিক্ষা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক বৈষম্য প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

১৮৯৩ সালে শিকাগোর বিশ্বধর্ম মহাসভায় তাঁর বক্তৃতা তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দেয়। পরবর্তী সময়ে আমেরিকা ও ইউরোপে বক্তৃতা, আলোচনা, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ এবং চিঠিপত্রের মাধ্যমে তিনি তাঁর ভাবনা ছড়িয়ে দেন।

তাঁর চিঠিগুলি আজও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল। সেখানে শিষ্য, সহকর্মী, বন্ধু ও সমর্থকদের উদ্দেশে ব্যক্তিগত নির্দেশ, শিক্ষা, সংগঠন গড়ার পরিকল্পনা, ভারতের সামাজিক অবস্থা এবং মানবকল্যাণের চিন্তা পাওয়া যায়।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার: স্বামী বিবেকানন্দ জীবনে ঠিক কতজন মানুষের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হয়েছিলেন, কতজনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন, তার কোনও নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই। একইভাবে তাঁর লেখা চিঠির মোট সংখ্যা সম্পর্কে একটি সর্বজনস্বীকৃত একক সংখ্যা দেওয়ার আগে The Complete Works of Swami Vivekananda-এর চিঠিপত্রের খণ্ড ও পাণ্ডুলিপির তালিকা ধরে গণনা করা প্রয়োজন।

তাঁর জীবন থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায় তা হলো—মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ শুধু তথ্য আদান-প্রদান নয়; মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখা, তার সমস্যা বোঝা এবং তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: চিঠি, সংগঠন ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনৈতিক জীবনেও ব্যক্তিগত যোগাযোগের গুরুত্ব ছিল অসাধারণ। ছাত্রজীবন, রাজনৈতিক সংগঠন, কংগ্রেসের নেতৃত্ব, কারাবাস, দেশত্যাগ এবং আজাদ হিন্দ আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি অসংখ্য ব্যক্তি ও সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।

তাঁর চিঠিপত্রে দেখা যায় রাজনৈতিক মতবিনিময়, সাংগঠনিক পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্বাধীনতার সংগ্রাম নিয়ে চিন্তাভাবনা।

তাঁর জীবনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল সরাসরি মানুষের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা। তিনি শুধু দূর থেকে নির্দেশ দেননি; সভা করেছেন, সংগঠন গড়েছেন, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং দেশের বাইরে গিয়েও স্বাধীনতার জন্য সমর্থন সংগঠিত করেছেন।

তাঁর ক্ষেত্রেও কতজন মানুষের সঙ্গে জীবনে সরাসরি দেখা হয়েছিল, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা পাওয়া যায় না। তাঁর সমস্ত ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক চিঠিরও একক, সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত গণনা প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই নির্দিষ্ট সংখ্যা না বানিয়ে তাঁর সংরক্ষিত পত্রাবলি ও Netaji Collected Works-এর সংশ্লিষ্ট খণ্ডকে গবেষণার ভিত্তি করা উচিত।

তাঁদের যুগের সঙ্গে আজকের যুগের পার্থক্য

বিষয়

বিবেকানন্দ ও সুভাষচন্দ্রের সময়

বর্তমান সময়

দূরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ

চিঠি, টেলিগ্রাফ, সীমিত টেলিফোন

মেসেজ, ভিডিও কল, ই-মেল

তথ্য পাওয়া

বই, সংবাদপত্র, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ

সার্চ ইঞ্জিন, সোশ্যাল মিডিয়া, AI

ভ্রমণ

দীর্ঘ প্রস্তুতি ও সময়

বিমান, দ্রুত রেল, ডিজিটাল বুকিং

সম্পর্ক গড়া

সরাসরি সাক্ষাৎ, চিঠি, সংগঠন

অনলাইন ও অফলাইন উভয়

জ্ঞান অর্জন

দীর্ঘ অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞতা

বিপুল তথ্য, অনলাইন কোর্স, AI

যোগাযোগের গতি

ধীর

প্রায় তাৎক্ষণিক

এখানে অতীতকে আদর্শ যুগ হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই। তখনও দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, একাকিত্ব, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং যোগাযোগের অসুবিধা ছিল। বরং অতীতের সীমাবদ্ধতা বুঝেই বর্তমান প্রযুক্তির মূল্যায়ন করা উচিত।

৪. ভারতের মোবাইল ডেটা বিপ্লব: কয়েক বছরে কীভাবে বদলে গেল জীবন?

ভারতে ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের অন্যতম বড় কারণ মোবাইল ইন্টারনেটের দাম কমে যাওয়া এবং স্মার্টফোনের প্রসার।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের মার্চে ভারতে প্রতি মাসে একজন ওয়্যারলেস ডেটা গ্রাহকের গড় ব্যবহার ছিল ৬১.৬৬ মেগাবাইট। ২০২৪ সালের জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১.৩০ গিগাবাইট। অর্থাৎ প্রায় ৩৫৩ গুণ বৃদ্ধি।

একই সময়ে প্রতি গিগাবাইট মোবাইল ডেটার গড় আয়-ভিত্তিক মূল্য ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের ₹২৬৮.৯৭ থেকে ২০২৪ সালের জুনে ₹৮.৩১-এ নেমে আসে।

এটি কেবল টেলিকম শিল্পের পরিবর্তন নয়; এটি ভারতীয় সমাজের যোগাযোগ, শিক্ষা, বিনোদন, ব্যবসা, সংবাদপাঠ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধরন বদলে দিয়েছে।

ভারতের মোবাইল ডেটা ব্যবহারের বৃদ্ধি

সময়

প্রতি সক্রিয় ডেটা গ্রাহকের গড় মাসিক ব্যবহার

২০২০–২১

১২.১১ GB

২০২১–২২

১৪.৮৯ GB

২০২২–২৩

১৭.০২ GB

২০২৩–২৪

১৯.৩০ GB

সূত্র: TRAI, Indian Telecom Services Performance Indicators, ২০২৪। ২০১৪–২০২৪-এর দাম ও ব্যবহার বৃদ্ধির তুলনার জন্য PIB, ২০২৫-এর সরকারি পরিসংখ্যান।

এই পরিসংখ্যান দেখায়, মোবাইল ইন্টারনেট এখন আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি দৈনন্দিন জীবনের অবকাঠামো হয়ে উঠেছে।

৫. মানুষ দিনে কতক্ষণ মোবাইলে কাটাচ্ছে?

FICCI–EY-এর ২০২৫ সালের Media and Entertainment রিপোর্টে Sensor Tower-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতীয়রা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪.৯৫ ঘণ্টা মোবাইল অ্যাপে সময় কাটিয়েছেন। এটি ২০২৩ সালের তুলনায় ৩.১ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের মোট সময় ১.১ ট্রিলিয়ন ঘণ্টারও বেশি ছিল। এর প্রায় ৬৯ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে মিডিয়া ও বিনোদন-সম্পর্কিত কাজে—যার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও, সঙ্গীত ও গেম রয়েছে।

এটি অ্যাপ ব্যবহারের একটি শিল্পভিত্তিক পরিমাপ; দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্ক্রিন টাইম বা কেবল সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় নয়।

প্রতিদিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। সপ্তাহে প্রায় ৩৪.৬ ঘণ্টা। বছরে প্রায় ১,৮০৭ ঘণ্টা—অর্থাৎ ৭৫ দিনেরও বেশি সময়।

এটি একটি গাণিতিক রূপান্তর, কোনও ব্যক্তির নিশ্চিত ব্যবহার নয়। তবু প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ: এই সময়ের কতটা আমরা শেখার জন্য ব্যবহার করছি, কতটা কাজের জন্য, আর কতটা কেবল এক ভিডিও থেকে আরেক ভিডিওতে চলে যাওয়ার জন্য?

৬. সময় বাঁচছে, না কি সময়ের ব্যবহার বদলে যাচ্ছে?

এখানেই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তি যাতায়াত, তথ্য অনুসন্ধান, যোগাযোগ এবং বহু প্রশাসনিক কাজের সময় কমিয়েছে। কিন্তু সেই সময় কি মানুষ নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, পড়াশোনার জন্য কিংবা সৃজনশীল কাজের জন্য ব্যবহার করছে?

ভারতের National Statistics Office (NSO)-এর Time Use Survey 2024 এই প্রশ্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়।

সমীক্ষায় ৬ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষের দৈনিক সময় ব্যবহারের হিসাব করা হয়েছে। ২০১৯ সালের সমীক্ষার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগ, কমিউনিটি অংশগ্রহণ ও ধর্মীয় কাজে দৈনিক গড় সময় ১৪৩ মিনিট থেকে ২০২৪ সালে ১৩৮ মিনিট হয়েছে। অন্যদিকে সংস্কৃতি, অবসর, গণমাধ্যম ও খেলাধুলার জন্য সময় ১৬৫ মিনিট থেকে বেড়ে ১৭১ মিনিট হয়েছে।

কাজের ধরন

২০১৯: দৈনিক গড় সময়

২০২৪: দৈনিক গড় সময়

সামাজিক যোগাযোগ, কমিউনিটি অংশগ্রহণ ও ধর্মীয় কাজ

১৪৩ মিনিট

১৩৮ মিনিট

সংস্কৃতি, অবসর, গণমাধ্যম ও খেলাধুলা

১৬৫ মিনিট

১৭১ মিনিট

সূত্র: NSO, Time Use Survey 2019 ও 2024। এখানে সব বয়সের ৬ বছর বা তার বেশি মানুষের গড় সময় দেখানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের বিভাগটি শুধু মুখোমুখি সাক্ষাৎ নয়; এর মধ্যে যোগাযোগ, কমিউনিটি অংশগ্রহণ ও ধর্মীয় কাজও রয়েছে।

এই তথ্য থেকে সরাসরি বলা যায় না যে ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণেই মুখোমুখি সম্পর্ক কমেছে। কারণ সমীক্ষার সামাজিক যোগাযোগ বিভাগে অনলাইন ও অফলাইন যোগাযোগ আলাদা করে দেখানো হয়নি। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত: অবসর ও গণমাধ্যমের সময় বাড়ছে, অথচ সামাজিক যোগাযোগের বিস্তৃত বিভাগে গড় সময় সামান্য কমেছে।

অর্থাৎ মানুষের সময়ের ব্যবহার বদলাচ্ছে—কিন্তু সেই পরিবর্তনকে শুধু মোবাইলের কারণে হয়েছে বলে দাবি করা যাবে না।

৭. ডিজিটাল যোগাযোগের সুবিধা: যে পরিবর্তনকে অস্বীকার করা যায় না

প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ভারতীয় গ্রাম, ছোট শহর ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে মোবাইল ইন্টারনেট বহু নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

  • শিক্ষা: গ্রামের ছাত্রছাত্রী এখন অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তৃতা, গবেষণাপত্র, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্লাস এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাসামগ্রী পেতে পারে।

  • চিকিৎসা: দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষ টেলিমেডিসিন, রিপোর্ট পাঠানো এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে প্রাথমিক পরামর্শের সুযোগ পাচ্ছেন।

  • ব্যবসা: ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অনলাইন পেমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে নতুন গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে পারেন।

  • পরিবার: কর্মসূত্রে দূরে থাকা বাবা-মা, সন্তান, ভাইবোন বা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ রাখা সম্ভব।

  • জরুরি পরিস্থিতি: দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে দ্রুত সাহায্য চাওয়া যায়।

  • জ্ঞান ও গবেষণা: আগে যে বই বা গবেষণাপত্রের জন্য বড় শহরের লাইব্রেরিতে যেতে হতো, তার অনেক কিছু এখন অনলাইনে পাওয়া যায়।

এই সুবিধাগুলি বাস্তব। প্রযুক্তির সমালোচনা করতে গিয়ে এই অর্জনগুলিকে অস্বীকার করা উচিত নয়।

৮. অসুবিধা: যোগাযোগের পরিমাণ বেড়েছে, কিন্তু মনোযোগ কি কমেছে?

ডিজিটাল যোগাযোগের সমস্যাটি প্রযুক্তি থাকা নয়; সমস্যাটি হলো প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে আমাদের মনোযোগ, সময় এবং সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।

ক. কথোপকথনের বদলে প্রতিক্রিয়া

আগে কেউ কিছু বললে আমরা শুনতাম, উত্তর দিতাম, আলোচনা করতাম। এখন অনেক সময় একটি পোস্টে লাইক, একটি ইমোজি বা ছোট্ট মন্তব্য দিয়েই যোগাযোগ শেষ হয়।

এতে যোগাযোগের সংখ্যা বাড়তে পারে, কিন্তু সম্পর্কের গভীরতা একই অনুপাতে বাড়ে না।

খ. তুলনার সংস্কৃতি

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা অন্যের জীবনের নির্বাচিত সুন্দর অংশ দেখি—ভ্রমণ, সাফল্য, বাড়ি, গাড়ি, পোশাক, খাবার, সম্পর্ক। কিন্তু সেই জীবনের ব্যর্থতা, ঋণ, মানসিক চাপ, পারিবারিক সমস্যা বা অনিশ্চয়তা সাধারণত দেখা যায় না।

ফলে নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে অন্যের সাজানো ডিজিটাল জীবনের তুলনা তৈরি হয়। এর ফলে অসন্তোষ, হীনম্মন্যতা ও অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

গ. মনোযোগের ভাঙন

একটি কাজ করতে করতে নোটিফিকেশন আসে। নোটিফিকেশন দেখতে গিয়ে অন্য ভিডিও খুলে যায়। একটি ভিডিও শেষ হলে আরেকটি শুরু হয়। আমরা কখনও কখনও উদ্দেশ্য ছাড়াই দীর্ঘ সময় স্ক্রল করি।

এতে গভীরভাবে পড়া, চিন্তা করা, কোনও দক্ষতা শেখা এবং দীর্ঘ সময় ধরে একটি কাজের মধ্যে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

ঘ. আবেগ প্রকাশের বদলে আবেগ চেপে রাখা

ডিজিটাল মাধ্যমে আমরা অনেক সময় নিজের প্রকৃত অনুভূতি প্রকাশ না করে একটি সুন্দর ছবি, ইতিবাচক ক্যাপশন বা হাসিমুখের ইমোজি ব্যবহার করি।

কিন্তু দুঃখ, হতাশা, ভয়, ব্যর্থতা, রাগ বা একাকিত্ব—এসব আবেগ মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অংশ। সেগুলিকে সব সময় আড়াল করলে সমস্যা মুছে যায় না; অনেক ক্ষেত্রে সাহায্য চাওয়ার সুযোগও কমে যায়।

তবে সব অনলাইন যোগাযোগই আবেগহীন নয়। দূরে থাকা মানুষের সঙ্গে গভীর কথোপকথন, অনলাইন সহায়তা-গোষ্ঠী এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা বহু মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠেছে।

৯. AI যুগ: মানুষের সম্ভাবনা বাড়বে, না কি অদৃশ্য হয়ে যাবে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জ্ঞান ও কাজের ধরনকে আরও দ্রুত বদলে দিচ্ছে। আগে যে কাজ করতে কয়েক ঘণ্টা লাগত, AI-র সাহায্যে তার খসড়া কয়েক মিনিটে তৈরি করা সম্ভব। অনুবাদ, তথ্য সাজানো, প্রাথমিক গবেষণা, কোড লেখা, ছবি তৈরি, হিসাব বিশ্লেষণ—বহু কাজের গতি বেড়েছে।

কিন্তু এখানেও একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে: AI কি মানুষের চিন্তাশক্তিকে বাড়াবে, নাকি মানুষকে নিজে চিন্তা করার অভ্যাস থেকে দূরে সরিয়ে দেবে?

একজন ছাত্র যদি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর AI থেকে নিয়ে নেয়, কিন্তু নিজে সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা না করে, তাহলে তার তথ্য পাওয়া বাড়বে; কিন্তু শেখার গভীরতা বাড়বেই এমন নয়।

একজন লেখক AI দিয়ে খসড়া তৈরি করতে পারেন। কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ, আবেগ, ভাষার স্বকীয়তা এবং নৈতিক বিচারবোধের বিকল্প তৈরি করা সহজ নয়।

একজন বিজ্ঞানী AI-কে গবেষণার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু নতুন প্রশ্ন তোলা, ভুল অনুমান চিহ্নিত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মানুষের কাছেই থাকে।

AI যুগে তাই মানুষের সম্ভাবনা হারিয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। বরং যে মানুষ প্রযুক্তিকে নিজের চিন্তার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করবে, তার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। বিপদ তখনই, যখন মানুষ নিজের বিচারবুদ্ধি, কৌতূহল ও সৃজনশীলতাকে পুরোপুরি যন্ত্রের হাতে ছেড়ে দেয়।

Chart 1: ভারতের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সময়ের বিভাজন

২০২৪ সালের মোট মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সময়ের ভিত্তিতে

ভারতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সময়.png

ভারতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সময়

মোট অ্যাপ ব্যবহারের সময়ের মধ্যে মিডিয়া ও বিনোদন এবং অন্যান্য ব্যবহারের আনুমানিক ভাগ।

সূত্র: FICCI–EY Media & Entertainment Report 2025, Sensor Tower-এর তথ্য।

Chart 2: দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সময়

একটি দিনের সময়ের তুলনায় মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার.png

প্রতিদিন গড় ৪.৯৫ ঘণ্টা অ্যাপ ব্যবহারের হিসাবকে ২৪ ঘণ্টার দিনের সঙ্গে তুলনা করে

একটি দিনের সময়ের তুলনায় মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার

২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড় মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সময় বনাম দিনের বাকি সময়।

এটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাপ ব্যবহারের সময়ের গাণিতিক তুলনা; দিনের বাকি সময় সম্পূর্ণ স্ক্রিনমুক্ত—এমন দাবি নয়।

Chart 3: অবসর ও সামাজিক সময়ের তুলনা

সামাজিক যোগাযোগ বনাম অবসর ও গণমাধ্যম.png

২০২৪ সালের NSO Time Use Survey-এর দৈনিক গড় সময়ের ভিত্তিতে

সামাজিক যোগাযোগ বনাম অবসর ও গণমাধ্যম

এই দুটি নির্দিষ্ট সময়-ব্যবহার বিভাগের সম্মিলিত ৩০৯ মিনিটের মধ্যে ভাগ। এটি মোট দিনের সময়ের বিভাজন নয়।

সূত্র: NSO, Time Use Survey 2024।

সম্পাদকীয় পরামর্শ: তিনটি Pie Chart-এর মধ্যে প্রথমটি ডিজিটাল অভ্যাস, দ্বিতীয়টি সময়ের ব্যবহার এবং তৃতীয়টি সামাজিক জীবন ও অবসরের পরিবর্তন বোঝাতে সাহায্য করবে। তৃতীয় চার্টটি যেন মোট দিনের সময়ের বিভাজন হিসেবে উপস্থাপিত না হয়।

ভারতের মাসিক মোবাইল ডেটা ব্যবহার: ২০১৪–২০২৪

India's Mobile Data Consumption Growth.png

India's Mobile Data Consumption Growth

প্রতি সক্রিয় ডেটা গ্রাহকের মাসিক গড় ব্যবহার। Y-axis logarithmic scale-এ দেখানো হয়েছে; ২০১৪ ও ২০২৪-এর সরকারি পরিসংখ্যান।

২০১৪: ৬১.৬৬ MB | ২০২৪: ২১.৩০ GB = ২১,৮১১.২ MB। প্রায় ৩৫৩ গুণ বৃদ্ধি। সূত্র: TRAI / PIB।

ডেটার দাম কমার প্রবণতা: ২০১৪–২০২৪

Average Revenue per GB of Wireless Data.png

Average Revenue per GB of Wireless Data

প্রতি GB ডেটারের গড় আয়ভিত্তিক মূল্য; ২০১৪ ও ২০২৪-এর তুলনা।

প্রকাশিত গড় মূল্য ₹২৬৮.৯৭ থেকে ₹৮.৩১-এ নেমেছে। এটি টেলিকম শিল্পের ARPU-ভিত্তিক হিসাব, সরাসরি প্রতিটি গ্রাহকের বিল নয়।

সম্পাদকীয় নোট: এই দুটি চার্টে মাত্র দুটি নির্দিষ্ট বছরের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তাই এগুলিকে পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক ট্রেন্ড হিসেবে নয়, দশ বছরের পরিবর্তনের তুলনা হিসেবে প্রকাশ করবে।

Jio বনাম Airtel: গ্রাহকসংখ্যার Line Graph

ভারতে অর্থবছর শেষে ওয়্যারলেস গ্রাহকসংখ্যা, মিলিয়নে। TRAI Annual Report 2024–25।

Reliance Jio vs Bharti Airtel — Wireless Subscribers.png

গ্রাহকসংখ্যার তুলনামূলক টেবিল

অর্থবছর

Jio (মিলিয়ন)

Airtel (মিলিয়ন)

২০২০–২১

422.92

352.39

২০২১–২২

403.99

360.33

২০২২–২৩

430.23

370.91

২০২৩–২৪

469.73

385.76

২০২৪–২৫

469.76

389.80

২০২৪–২৫ অর্থবছরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • Jio-র গ্রাহক: ৪৬৯.৭৬ মিলিয়ন

  • Airtel-এর গ্রাহক: ৩৮৯.৮০ মিলিয়ন

  • Jio-র বার্ষিক বৃদ্ধির হার: ০.০১%

  • Airtel-এর বার্ষিক বৃদ্ধির হার: ১.০৫%

সূত্র: TRAI Annual Report 2024–25।

১০. তাহলে মানুষ কীসে খুশি হবে?

মানুষের সুখকে শুধু অর্থ, প্রযুক্তি, ভ্রমণ, ফলোয়ার বা অনলাইন জনপ্রিয়তার সংখ্যা দিয়ে মাপা যায় না।

মানুষের ভালো থাকার সঙ্গে জড়িত কয়েকটি বিষয় হলো:

  • অর্থপূর্ণ সম্পর্ক ও বিশ্বাসযোগ্য বন্ধুত্ব।

  • পরিবারের সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে সময় কাটানো।

  • শারীরিক সুস্থতা, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চা।

  • নিজের কাজের মধ্যে অর্থ ও উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া।

  • নতুন কিছু শেখা এবং নিজের দক্ষতা প্রকাশ করা।

  • প্রকৃতি, বই, সঙ্গীত, শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ।

  • অন্যের কাজে আসা এবং সামাজিকভাবে অবদান রাখা।

  • নিজের আবেগ প্রকাশ করার নিরাপদ পরিবেশ।

এগুলি কোনও একক বৈজ্ঞানিক সূত্রে সুখের নিশ্চয়তা দেয় না। মানুষের পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, স্বাস্থ্য, পারিবারিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সুখের সংজ্ঞা বদলে যায়।

তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—সুখের জন্য শুধু আরও বেশি কিছু পাওয়া নয়, যা ইতিমধ্যে আছে তার সঙ্গে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করাও জরুরি।

১১. প্রযুক্তির সঙ্গে ভারসাম্য: কিছু বাস্তব অভ্যাস

ডিজিটাল জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া সম্ভবও নয়, প্রয়োজনও নেই। বরং প্রযুক্তিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু অভ্যাস তৈরি করা যায়।

অভ্যাস

কীভাবে সাহায্য করতে পারে

দিনের শুরুতে কিছুক্ষণ ফোন না দেখা

নিজের চিন্তা ও কাজের পরিকল্পনার সময় তৈরি করে

নির্দিষ্ট সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার

উদ্দেশ্যহীন স্ক্রল কমাতে সাহায্য করে

খাবারের সময় ফোন দূরে রাখা

পরিবারের সঙ্গে মনোযোগী কথোপকথন বাড়ায়

প্রতিদিন কিছু সময় বই পড়া

দীর্ঘ মনোযোগ ও চিন্তার অভ্যাস তৈরি করে

বন্ধু বা আত্মীয়ের সঙ্গে সরাসরি দেখা

সম্পর্কের ব্যক্তিগত দিক বজায় রাখে

হাঁটা বা শরীরচর্চা

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় সহায়তা করে

AI ব্যবহারের পরে নিজে যাচাই করা

বিচারবুদ্ধি ও শেখার অভ্যাস বজায় রাখে

ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো

ঘুমের রুটিন বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে

যোগাযোগের ভবিষ্যৎ শুধু দ্রুততায় নয়, মানবিকতায়

একসময় মানুষ চিঠির অপেক্ষায় দিন কাটাত। আজ মানুষ কয়েক সেকেন্ডে উত্তর না পেলে অস্থির হয়ে পড়ে। একসময় দূরের মানুষের সঙ্গে দেখা করতে মাসের পর মাস ভ্রমণ করতে হতো; আজ কয়েক ঘণ্টায় দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া যায়। একসময় তথ্যের অভাব ছিল; আজ তথ্যের প্রাচুর্য। একসময় বই খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল; আজ একটি মোবাইলেই পৃথিবীর বহু গ্রন্থাগারের দরজা খুলে যায়।

তবু মানুষের মৌলিক চাহিদা বদলায়নি। মানুষ এখনও চায় কেউ তার কথা মন দিয়ে শুনুক, তার দুঃখ বুঝুক, তার সাফল্যে আনন্দিত হোক, বিপদে পাশে দাঁড়াক। একটি ভিডিও কল দূরের মানুষকে দেখতে সাহায্য করে, কিন্তু সব সময় তার পাশে বসে থাকার অনুভূতি দিতে পারে না। একটি মেসেজ খবর পৌঁছে দেয়, কিন্তু সব সম্পর্কের গভীরতা তৈরি করতে পারে না।

প্রযুক্তি আমাদের সময় বাঁচানোর সুযোগ দিয়েছে। এখন প্রশ্ন—আমরা সেই সময় কোথায় ব্যয় করছি?

যদি সেই সময় আরও বেশি স্ক্রল, তুলনা, অস্থিরতা ও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের পেছনে চলে যায়, তাহলে প্রযুক্তির গতি বাড়লেও জীবনের গুণমান বাড়বে না। আর যদি সেই সময় আমরা শেখা, সৃষ্টি, পরিবার, বন্ধুত্ব, সমাজ এবং নিজের বিকাশে ব্যবহার করি, তাহলে প্রযুক্তি সত্যিই মানুষের শক্তি হয়ে উঠবে।

মানুষের ভবিষ্যৎ শুধু আরও দ্রুত ইন্টারনেট, আরও শক্তিশালী AI বা আরও উন্নত স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করবে না। নির্ভর করবে মানুষ কতটা নিজের চিন্তা, অনুভূতি, সম্পর্ক ও সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে তার ওপর।

কারণ শেষ পর্যন্ত, পৃথিবীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকা আর মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকা—দুটি এক বিষয় নয়।

তথ্যসূত্র ও গবেষণার ভিত্তি

1. TRAI, Indian Telecom Services Performance Indicators — ভারতের ওয়্যারলেস ডেটা ব্যবহারের পরিসংখ্যান।

2. Press Information Bureau, Government of India — ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের ইন্টারনেট সংযোগ, ডেটা ব্যবহার ও প্রতি GB ডেটার গড় মূল্য।

3. FICCI–EY, Media and Entertainment Report 2025 — ২০২৪ সালে ভারতের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সময় ও মিডিয়া ব্যবহারের প্রবণতা।

4. Ministry of Statistics and Programme Implementation, Time Use Survey 2019 ও Time Use Survey 2024 — ভারতীয়দের দৈনিক সময় ব্যবহারের তুলনামূলক তথ্য।

5. Reporting the Raj: The British Press and India, c.1880–1922 — ঔপনিবেশিক ভারতের ডাক, টেলিগ্রাফ ও যোগাযোগব্যবস্থার ইতিহাস।

6. The Complete Works of Swami Vivekananda — বিবেকানন্দের বক্তৃতা, চিঠি ও রচনাবলি।

7. Netaji Collected Works — সুভাষচন্দ্র বসুর চিঠিপত্র, বক্তৃতা ও রাজনৈতিক দলিল।

গবেষণাগত সীমাবদ্ধতা: মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সময়, সামাজিক যোগাযোগের সময় এবং সরাসরি মুখোমুখি সাক্ষাতের সময় এক জিনিস নয়। সরকারি Time Use Survey-এ অনলাইন ও অফলাইন সামাজিক যোগাযোগের সম্পূর্ণ পৃথক হিসাব নেই। তাই এই নিবন্ধে প্রযুক্তির কারণে সরাসরি সাক্ষাৎ কমেছে—এমন কার্যকারণ দাবি করা হয়নি।

সম্পাদকীয় প্রশ্ন: আমরা কি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করার জন্য, নাকি প্রযুক্তির প্ল্যাটফর্মগুলিই আমাদের সময় ও মনোযোগ ব্যবহার করছে?

Official Editorial PDF Edition

Verified Publication

Download a clean, high-resolution printable copy complete with tables, formulas, and high-res photography. Free for registered readers.

Reader Reviews & Ratings

Community Feedback & Editorial Ratings

Leave a Review

Select your rating:
Excellent (5/5)
Min 3 characters, max 1,500 characters0 / 1500

All Reader Reviews (0)

No reader reviews yet for this story.

Be the first to share your rating and perspective!

More News

Editorial
অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।
Spiritual

অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।

Nov 3, 2026Read →
দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম
National Award

দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম

Nov 2, 2026Read →
পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?
Geo Politics

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?

Nov 1, 2026Read →
৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই
Sports

৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই

Nov 1, 2026Read →
বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?
Environment & Ecology

বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?

Nov 1, 2026Read →
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন
International

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন

Nov 1, 2026Read →
Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা
Technology

Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা

Oct 26, 2026Read →
ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড
Award

ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড

Oct 26, 2026Read →
International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide
Geo Politics

International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide

Oct 25, 2026Read →
International Organisations and United Nations Structure: Complete Static GK Guide
Geo Politics

International Organisations and United Nations Structure: Complete Static GK Guide

Oct 25, 2026Read →
অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।
Spiritual

অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।

Nov 3, 2026Read →
দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম
National Award

দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম

Nov 2, 2026Read →
পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?
Geo Politics

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?

Nov 1, 2026Read →
৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই
Sports

৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই

Nov 1, 2026Read →
বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?
Environment & Ecology

বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?

Nov 1, 2026Read →
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন
International

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন

Nov 1, 2026Read →
Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা
Technology

Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা

Oct 26, 2026Read →
ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড
Award

ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড

Oct 26, 2026Read →
International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide
Geo Politics

International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide

Oct 25, 2026Read →
International Organisations and United Nations Structure: Complete Static GK Guide
Geo Politics

International Organisations and United Nations Structure: Complete Static GK Guide

Oct 25, 2026Read →
SPONSORED SPOTLIGHT
Book Ad
DebKalpa GalaxyAd

DebKalpa Galaxy

Xerox, Stamp, Flex Print

+91 7319337901
WhatsApp
Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.Ad

Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.

Mathematics Classes, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9051566735
WhatsApp
Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,Ad

Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,

Chemistry, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9874040804
WhatsApp
Arijit Sir, MA, B.EdAd

Arijit Sir, MA, B.Ed

ICSE,CBSE.WB -IX, X, XI & XII,History& Geography-

+91 8013262355
WhatsApp
DebKalpa GalaxyAd

DebKalpa Galaxy

Xerox, Stamp, Flex Print

+91 7319337901
WhatsApp
Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.Ad

Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.

Mathematics Classes, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9051566735
WhatsApp
Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,Ad

Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,

Chemistry, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9874040804
WhatsApp
Arijit Sir, MA, B.EdAd

Arijit Sir, MA, B.Ed

ICSE,CBSE.WB -IX, X, XI & XII,History& Geography-

+91 8013262355
WhatsApp
DebKalpa GalaxyAd

DebKalpa Galaxy

Xerox, Stamp, Flex Print

+91 7319337901
WhatsApp
Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.Ad

Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.

Mathematics Classes, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9051566735
WhatsApp
Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,Ad

Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,

Chemistry, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9874040804
WhatsApp
Arijit Sir, MA, B.EdAd

Arijit Sir, MA, B.Ed

ICSE,CBSE.WB -IX, X, XI & XII,History& Geography-

+91 8013262355
WhatsApp
DebKalpa GalaxyAd

DebKalpa Galaxy

Xerox, Stamp, Flex Print

+91 7319337901
WhatsApp
Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.Ad

Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.

Mathematics Classes, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9051566735
WhatsApp
Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,Ad

Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,

Chemistry, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9874040804
WhatsApp
Arijit Sir, MA, B.EdAd

Arijit Sir, MA, B.Ed

ICSE,CBSE.WB -IX, X, XI & XII,History& Geography-

+91 8013262355
WhatsApp