ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ৫১.৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করলেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন
ব্রাসিলিয়া, ১ নভেম্বর ২০২৬: ব্রাজিলের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আবারও নির্বাচনে জয়লাভ করলেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের রাজনীতিতে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিলেন ৮০ বছর বয়সি লুলা।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লুলার জয়
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় লুলা দা সিলভা পেয়েছেন ৫১.৭৯ শতাংশ বৈধ ভোট। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮.২১ শতাংশ ভোট।
নির্বাচনের সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, লুলা পেয়েছেন ৬ কোটি ৪২ লাখ ৫৬ হাজার ২৩২টি ভোট। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৫ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৪১টি ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৪৪ লাখ ভোট।
প্রথম দফার নির্বাচনে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও বলসোনারো। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ভোটের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত লুলার পক্ষে জনসমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেন।
কে এই লুলা দা সিলভা?
লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ব্রাজিলের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। পরবর্তীকালে তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন।
২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি আবার ক্ষমতায় ফেরেন। এবার ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তিনি আরও একটি চার বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হলেন।
নির্বাচনে কী ছিল প্রধান ইস্যু?
২০২৬ সালের নির্বাচনে ব্রাজিলের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সাধারণ মানুষের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সহায়তা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল নির্বাচনী আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।
লুলার নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ফ্লাভিও বলসোনারোর পরাজয়
ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং একজন সেনেটর। প্রথম দফার নির্বাচনে ভালো ফল করলেও দ্বিতীয় দফায় তিনি লুলাকে টপকাতে পারেননি।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়েছিল। তবে ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ লুলার জয় ঘোষণা করেছে।
কবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন লুলা?
নির্বাচনে জয়লাভ করলেও লুলাকে নতুন মেয়াদের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি তাঁর নতুন চার বছরের মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা।
এই সময়ে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা তাঁর সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?
ব্রাজিল লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ফলে লুলার পুনর্নির্বাচন শুধু ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় দেশ এবং লাতিন আমেরিকার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন দিকে এগোয়, সেদিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।
শেষ কথা
২০২৬ সালের নির্বাচনে লুলা দা সিলভার জয় ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় দফায় জয় ছিনিয়ে নেওয়া তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।
এখন দেখার বিষয়, নতুন মেয়াদে লুলা সরকার দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কতটা সাফল্য অর্জন করতে পারে।
Official Editorial PDF Edition
Verified PublicationDownload a clean, high-resolution printable copy complete with tables, formulas, and high-res photography. Free for registered readers.
Community Feedback & Editorial Ratings
All Reader Reviews (0)
No reader reviews yet for this story.
Be the first to share your rating and perspective!














