TOP STORIES
Spiritual•Nov 3

অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।

National Award•Nov 2

দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম

Editorial•Nov 2

ডিজিটাল যুগে মানুষ: যোগাযোগ বেড়েছে, কমেছে কি মানবিক সংযোগ? সময়, প্রযুক্তি ও একাকিত্বের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ

Geo Politics•Nov 1

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?

Sports•Nov 1

৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই

Environment & Ecology•Nov 1

বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?

International•Nov 1

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন

Technology•Oct 26

Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা

Award•Oct 26

ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড

Geo Politics•Oct 25

International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide

Spiritual•Nov 3

অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।

National Award•Nov 2

দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম

Editorial•Nov 2

ডিজিটাল যুগে মানুষ: যোগাযোগ বেড়েছে, কমেছে কি মানবিক সংযোগ? সময়, প্রযুক্তি ও একাকিত্বের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ

Geo Politics•Nov 1

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?

Sports•Nov 1

৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই

Environment & Ecology•Nov 1

বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?

International•Nov 1

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন

Technology•Oct 26

Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা

Award•Oct 26

ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড

Geo Politics•Oct 25

International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide

বইয়ের পাতায় নৈতিকতা, বাস্তবে ক্ষমতার রাজনীতি: রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মানুষের জীবনের মধ্যবর্তী গভীর ব্যবধান

প্লেটো থেকে মেকিয়াভেলি, মার্কস থেকে আম্বেদকর—রাজনৈতিক দর্শনের আদর্শ, ক্ষমতার বাস্তবতা এবং আধুনিক গণতন্ত্রের নৈতিক সংকটের অনুসন্ধান।

Mallika Jana Hatai
October 20, 2026
11:55 AM IST
Share Story:WhatsAppFacebook
Political philosophy books and historical thinkers contrasted with modern political power, Parliament, citizens and the struggle for justice and equality.
Political philosophy books and historical thinkers contrasted with modern political power, Parliament, citizens and the struggle for justice and equality.

বইয়ের পাতায় নৈতিকতা, বাস্তবে ক্ষমতার রাজনীতি: রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মানুষের জীবনের মধ্যবর্তী গভীর ব্যবধান

প্লেটো থেকে মেকিয়াভেলি, মার্কস থেকে আম্বেদকর—রাজনৈতিক দর্শন আমাদের যে আদর্শ দেখিয়েছে, আধুনিক গণতন্ত্র কি সত্যিই সেই আদর্শ অনুসরণ করে, নাকি ক্ষমতার প্রয়োজনে তার অর্থ বদলে দেয়?

১. “সদা সত্য কথা বলিব”—কিন্তু সত্যের রাজনীতি কোথায়?

ছোটবেলায় আমরা বইয়ে পড়েছি, “সদা সত্য কথা বলিব।” শিখেছি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়, দুর্বলকে সাহায্য করতে হয়, সকল মানুষ সমান এবং ক্ষমতা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। এই শিক্ষাগুলি শুধু বিদ্যালয়ের নীতিশিক্ষার বইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। মানবসভ্যতার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও দার্শনিক ইতিহাসেও একই আদর্শ বারবার ফিরে এসেছে।

কিন্তু বড় হয়ে যখন আমরা বাস্তব সমাজের দিকে তাকাই, তখন একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আসে—যে নৈতিকতা ব্যক্তিজীবনে ভালো বলে শেখানো হয়, রাজনীতির ক্ষেত্রে তা প্রায়ই এত কঠিন হয়ে ওঠে কেন?

যে নেতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাঁর নিজের দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেই একই কঠোরতা কি দেখা যায়? যে দল ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, ক্ষমতায় গেলে কি সে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে? যে রাজনৈতিক সংগঠন শ্রমিকের অধিকারের কথা বলে, তার নিজের সংগঠনের ভিতরে শ্রমিকের মতামত কতটা গুরুত্ব পায়? যে দল গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে, সেই দলের ভিতরে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে গণতন্ত্র কতটা কার্যকর?

এই প্রশ্নগুলি কোনও একটি রাজনৈতিক দলকে অভিযুক্ত করার জন্য নয়। এগুলি এমন প্রশ্ন, যা প্রতিটি রাজনৈতিক দল, সরকার, বিরোধী শক্তি এবং নাগরিক সমাজের সামনে রাখা প্রয়োজন।

কারণ নৈতিক আদর্শের প্রকৃত পরীক্ষা বক্তৃতায় নয়, বরং সেই আদর্শ নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেও তাকে মেনে চলার ক্ষমতায়।

রাজনীতিতে সত্যের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা তখনই হয়, যখন সত্য স্বীকার করলে নিজের ক্ষমতা, জনপ্রিয়তা কিংবা রাজনৈতিক সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

২. প্লেটো: রাষ্ট্র কি সত্যিই জ্ঞান ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে চলে?

প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো তাঁর The Republic গ্রন্থে ন্যায়বিচার, আদর্শ রাষ্ট্র এবং শাসকের নৈতিক যোগ্যতা নিয়ে গভীর আলোচনা করেছিলেন। তাঁর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণায় শাসকের ব্যক্তিগত লোভের পরিবর্তে জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং সামগ্রিক কল্যাণের গুরুত্ব ছিল। তাঁর দার্শনিক-শাসকের ধারণা এই প্রশ্ন তোলে—রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কি এমন মানুষের হাতে থাকা উচিত নয়, যিনি ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে ন্যায়বিচারকে বেশি গুরুত্ব দেবেন?

কিন্তু বাস্তব রাজনীতিতে সমস্যা হলো, জ্ঞানী হওয়া এবং ক্ষমতা অর্জন করা একই বিষয় নয়।

একজন সৎ, দক্ষ ও জ্ঞানী ব্যক্তি হয়তো প্রশাসন পরিচালনায় যোগ্য, কিন্তু তিনি যদি জনসমর্থন সংগঠিত করতে না পারেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারেন। অন্যদিকে, যিনি মানুষের আবেগকে দ্রুত প্রভাবিত করতে পারেন, সহজ প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন এবং জটিল সমস্যার সহজ উত্তর হাজির করতে পারেন, তিনি বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন।

এখানে গণতন্ত্রের একটি মৌলিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। গণতন্ত্রে জনগণের সম্মতি প্রয়োজন, কিন্তু জনগণের সম্মতি সব সময় গভীর জ্ঞান, নিরপেক্ষ তথ্য কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনার ভিত্তিতে তৈরি হয় না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনায় অযোগ্য। বরং এর অর্থ হলো, গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে প্রয়োজন স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, মানসম্মত শিক্ষা, স্বচ্ছ তথ্য, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তিনির্ভর জনপরিসর।

প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা আমাদের একটি প্রশ্ন দেয়: রাষ্ট্র কি কেবল জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে চলবে, নাকি জনপ্রিয়তার পাশাপাশি জবাবদিহি, জ্ঞান ও ন্যায়বিচারেরও প্রয়োজন রয়েছে?

আধুনিক গণতন্ত্রের উত্তর হওয়া উচিত—জনগণের সম্মতি অপরিহার্য, কিন্তু সেই সম্মতিকে কার্যকর ও অর্থবহ করতে প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও অপরিহার্য।

৩. মেকিয়াভেলি: রাজনীতিতে নৈতিকতা ও ক্ষমতার সংঘাত

ষোড়শ শতকের ইতালীয় চিন্তাবিদ নিকোলো মেকিয়াভেলির The Prince রাজনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। তিনি শাসকের নৈতিক আদর্শের পাশাপাশি ক্ষমতা অর্জন, ক্ষমতা ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর চিন্তা পরবর্তী রাজনৈতিক দর্শনে এই প্রশ্নকে সামনে আনে—একজন শাসক ব্যক্তিগত নৈতিকতার সব নিয়ম মেনে চললে কি প্রতিটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন?

মেকিয়াভেলিকে প্রায়ই এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন তাঁর বক্তব্য—ক্ষমতার জন্য সবকিছুই বৈধ। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাকে শুধু এই একটি বাক্যে সীমাবদ্ধ করা ভুল। তিনি যে বিষয়টি সামনে আনেন, তা হলো রাজনীতির বাস্তব পরিস্থিতি অনেক সময় ব্যক্তিগত নৈতিকতার সরল নিয়মের চেয়ে জটিল।

এই জটিলতার বাস্তব উদাহরণ হতে পারে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।

একটি দল নির্বাচনের আগে জানাতে পারে যে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন, তখন সেই দলের সামনে একটি পরীক্ষা তৈরি হয়—আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, নাকি দলীয় সুবিধা?

এখানে একটি পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সমঝোতা সব সময় অনৈতিক নয়। গণতন্ত্রে বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনা, আপস এবং জোট গঠন স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও সমঝোতা যদি আইনের সমান প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে, প্রমাণ গোপন করে কিংবা ক্ষমতাবানকে বিশেষ সুবিধা দেয়, তখন তা নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যায় পরিণত হয়।

রাজনীতিতে বাস্তববাদ প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তববাদ আর সুবিধাবাদ এক নয়।

বাস্তববাদ মানে পরিস্থিতি বুঝে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া। সুবিধাবাদ মানে নীতিকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে ফেলা, অথচ জনসমক্ষে সেই পরিবর্তনের দায় স্বীকার না করা।

রাজনীতির সমস্যা কেবল নৈতিকতার অনুপস্থিতি নয়; সমস্যা হলো, নৈতিকতার ভাষা কখনও কখনও ক্ষমতা রক্ষার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

৪. মার্কস: নৈতিকতার প্রশ্নের পিছনে অর্থনৈতিক ক্ষমতা

কার্ল মার্কস রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থাকে বোঝার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক, উৎপাদনব্যবস্থা এবং শ্রেণিগত ক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সমাজের রাজনৈতিক ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলিকে বুঝতে হলে অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সম্পদের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও বিবেচনা করতে হয়।

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে—আইনের সামনে সবাই সমান হলেও, বাস্তবে আইন ব্যবহার করার সুযোগ কি সবার সমান?

একজন দরিদ্র শ্রমিক অন্যায়ের শিকার হলে আদালতে যাওয়ার জন্য তাঁর সময়, অর্থ, আইনি সহায়তা এবং সামাজিক সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, বিপুল সম্পদের অধিকারী ব্যক্তি দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য বেশি রাখেন।

এতে আইনগত অধিকার আর সেই অধিকার বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

একইভাবে, নির্বাচনে প্রত্যেক নাগরিকের একটি ভোট থাকলেও, রাজনৈতিক প্রচার, বিজ্ঞাপন, সংগঠন, সংবাদমাধ্যমে প্রবেশাধিকার এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা সবার সমান নয়। ফলে আইনের চোখে সমতা থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে অসমতা থেকে যেতে পারে।

এখানে মার্কসের চিন্তার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন যে সামাজিক ন্যায়বিচার কেবল ভালো মানুষের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করতে পারে না। অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোও এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষ নিজের অধিকার বাস্তবে ব্যবহার করতে পারে।

তবে অর্থনৈতিক বৈষম্যই প্রতিটি রাজনৈতিক সমস্যার একমাত্র কারণ নয়। ধর্মীয় পরিচয়, জাতপাত, লিঙ্গ, ভাষা, জাতিগত ইতিহাস এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের চরিত্রও রাজনৈতিক আচরণকে প্রভাবিত করে।

অর্থাৎ, নৈতিকতা ও রাজনীতির ব্যবধান বুঝতে হলে মানুষের ব্যক্তিগত চরিত্রের পাশাপাশি ক্ষমতা ও সম্পদের বণ্টনও পরীক্ষা করতে হবে।

৫. রবীন্দ্রনাথ: জাতির নামে মানুষকে ভুলে যাওয়া

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাতীয়তাবাদ-সমালোচনা আজও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাতীয়তাবাদের এমন রূপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেখানে সংগঠিত জাতিরাষ্ট্রের শক্তি ও স্বার্থ মানুষের মানবিক সম্পর্কের ওপরে স্থান পায়। তাঁর চিন্তায় সমাজের সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং মানুষের মর্যাদার প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আধুনিক গবেষণাতেও রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ-সমালোচনাকে নিছক দেশবিরোধিতা নয়, বরং রাজনৈতিক সম্প্রদায়কে অন্যভাবে ভাবার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়।

এই ভাবনার আলোকে বর্তমান রাজনীতিতে একটি প্রশ্ন তোলা যায়: দেশের প্রতি ভালোবাসা কি দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত, নাকি কখনও কখনও জাতীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক আনুগত্যের মাপকাঠি করে তোলা হয়?

দেশপ্রেমের অর্থ হতে পারে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা, জনস্বার্থে কাজ করা, দুর্নীতির প্রতিবাদ করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নতি দাবি করা। কিন্তু দেশপ্রেম যদি কেবল নির্দিষ্ট স্লোগান, প্রতীক বা রাজনৈতিক নেতার প্রতি আনুগত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে তার অর্থ সংকুচিত হতে পারে।

একজন নাগরিক সরকারের সমালোচনা করেও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল থাকতে পারেন। আবার কেউ দেশের নামে কথা বলেও জনস্বার্থের বিরোধী কাজ করতে পারেন।

তাই জাতীয়তাবাদের মূল্যায়ন শুধু আবেগের তীব্রতা দিয়ে করা যায় না। দেখতে হয়, সেই জাতীয়তাবাদ মানুষকে একত্র করছে, নাকি নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করছে; প্রশ্ন করার অধিকারকে সম্মান করছে, নাকি ভিন্নমতকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করছে।

ভারতের মতো বহু ধর্ম, ভাষা, জাতি, জাতপাত ও সংস্কৃতির দেশে এই প্রশ্ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার অর্থ সবাইকে এক রকম করে দেওয়া নয়। বরং ভিন্নতা সত্ত্বেও সমান নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।

৬. আম্বেদকর: সংবিধান ভালো হলেই কি গণতন্ত্র ভালো হয়?

ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে ড. বি. আর. আম্বেদকরের চিন্তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর গণপরিষদে তাঁর শেষ দিকের ভাষণে আম্বেদকর সতর্ক করেছিলেন যে কোনও সংবিধান কতটা ভালোভাবে কাজ করবে, তা শুধু তার লিখিত বিধানের ওপর নির্ভর করে না; যারা সেই সংবিধান পরিচালনা করবেন, তাঁদের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাজনৈতিক গণতন্ত্রের পাশাপাশি সামাজিক গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন—যেখানে স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।

এই বক্তব্যের গভীর তাৎপর্য হলো, ভালো আইন এবং ভালো সমাজ এক জিনিস নয়।

ভারতের সংবিধান সমতা, স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের নীতিকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু বাস্তবে জাতপাতের বৈষম্য, লিঙ্গভিত্তিক অসাম্য, অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং সামাজিক ক্ষমতার অসমতা যদি মানুষের সুযোগ সীমিত করে, তাহলে সংবিধানের প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয় না।

উদাহরণ হিসেবে, কোনও ব্যক্তি আইনের চোখে সমান নাগরিক হলেও যদি সামাজিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান বা ন্যায়বিচারের সুযোগে বাধার মুখে পড়েন, তাহলে কেবল সাংবিধানিক ঘোষণাই তাঁর সমস্যা সমাধান করে না।

এখানে প্রয়োজন আইন প্রয়োগ, প্রশাসনিক জবাবদিহি, সামাজিক সংস্কার এবং নাগরিক সচেতনতা।

আম্বেদকরের চিন্তা আমাদের আরও একটি সতর্কবার্তা দেয়: গণতন্ত্রকে কেবল ভোটের ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ করলে চলবে না। রাজনৈতিক গণতন্ত্রের সঙ্গে সামাজিক গণতন্ত্রের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

অর্থাৎ, পাঁচ বছর অন্তর ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেও নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধিতার অধিকার, সমান আইনি সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি থাকতে হবে।

সংবিধান রাষ্ট্রকে নৈতিকতার কাঠামো দিতে পারে; কিন্তু সেই কাঠামোকে জীবন্ত করে তুলতে হয় মানুষের আচরণ ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

৭. রাজনৈতিক দলগুলি কি নিজেদের আদর্শ নিজেরাই ভাঙে?

এই প্রশ্নটি বর্তমান রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই কোনও না কোনও আদর্শের কথা বলে—ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়, উন্নয়ন, দুর্নীতিবিরোধিতা কিংবা মানুষের অধিকার। কিন্তু একটি দলের আদর্শকে বিচার করতে হলে তার বক্তৃতা নয়, তার আচরণও পরীক্ষা করতে হবে।

কয়েকটি প্রশ্নের মাধ্যমে সেই পরীক্ষা করা যায়:

  • সত্যবাদিতা: দলের নিজের ভুল বা ব্যর্থতা প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয় কি?

  • জবাবদিহি: দলের নেতা ও সাধারণ কর্মীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য কি?

  • গণতন্ত্র: দলের ভিতরে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ আছে কি?

  • ধর্মনিরপেক্ষতা: ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষিত হয় কি?

  • সামাজিক ন্যায়: দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের জন্য ঘোষিত নীতির বাস্তব ফল কী?

  • স্বচ্ছতা: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, অর্থের ব্যবহার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় কি?

এই প্রশ্নগুলি BJP, CPI(M), কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস কিংবা অন্য যে কোনও দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

কোনও দল ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে বলেই তার সব কাজ ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে যায় না। আবার কোনও দল জাতীয়তাবাদের কথা বললেই তার প্রতিটি নীতি জাতীয় স্বার্থবিরোধী হয়ে যায়, এমন সিদ্ধান্তও যুক্তিসঙ্গত নয়।

প্রতিটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ প্রয়োজন। কিন্তু প্রমাণ যাচাইয়ের মানদণ্ড যেন দলভেদে বদলে না যায়, সেটিও জরুরি।

কারণ রাজনৈতিক পক্ষপাতের একটি বড় লক্ষণ হলো—নিজের দলের ক্ষেত্রে যে আচরণকে ভুল বলা হয়, প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে একই আচরণকে সমর্থন করা।

৮. বর্তমান যুগে সত্যের সংকট: মিথ্যা তথ্য, আবেগ ও রাজনৈতিক মেরুকরণ

ডিজিটাল যোগাযোগ রাজনৈতিক আলোচনাকে অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সাধারণ নাগরিক এখন নিজেই সংবাদ, ছবি, ভিডিও ও মতামত প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু একই সঙ্গে অসম্পূর্ণ তথ্য, বিভ্রান্তিকর সম্পাদনা, গুজব এবং আবেগনির্ভর প্রচার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগও বেড়েছে।

এখানে একটি মৌলিক সমস্যা রয়েছে: মানুষ অনেক সময় এমন তথ্যকে বেশি বিশ্বাস করেন, যা তাঁদের আগে থেকেই থাকা ধারণাকে সমর্থন করে। কোনও দাবি নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের পক্ষে গেলে তা যাচাই না করেই গ্রহণ করা হতে পারে; আর বিপরীত দাবি সত্য হলেও তা প্রত্যাখ্যান করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

এই প্রবণতা শুধু রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ নাগরিক, সংবাদমাধ্যম, অনলাইন প্রভাবক এবং রাজনৈতিক কর্মীরাও এর অংশ হতে পারেন।

তাই গণতন্ত্রে তথ্যের স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনই তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতিও প্রয়োজন।

কোনও ভিডিও দেখলে প্রশ্ন করা দরকার—এটি কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে? কোনও পরিসংখ্যান দেখলে জানতে হবে—মূল উৎস কী? কোনও নেতার বক্তব্য প্রচারিত হলে দেখতে হবে—সম্পূর্ণ বক্তব্যটি কী ছিল, নাকি একটি বাক্য আলাদা করে দেখানো হয়েছে?

রাজনৈতিক সচেতনতার অর্থ কেবল নিজের মতের পক্ষে যুক্তি খুঁজে পাওয়া নয়। নিজের মত ভুল হতে পারে—এই সম্ভাবনাটিও স্বীকার করা।

এটাই নৈতিক শিক্ষার একটি বাস্তব প্রয়োগ: সত্যকে ভালোবাসা মানে শুধু নিজের পছন্দের সত্যকে গ্রহণ করা নয়; নিজের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গেলেও প্রমাণকে গুরুত্ব দেওয়া।

৯. কেন আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে এত ব্যবধান থাকে?

এই ব্যবধানের একটিমাত্র কারণ নেই। অন্তত পাঁচটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, ব্যক্তিগত স্বার্থ। মানুষ সাধারণত এমন সিদ্ধান্ত নিতে চান, যাতে নিজের নিরাপত্তা, মর্যাদা, সম্পদ বা অবস্থান অক্ষুণ্ণ থাকে। নৈতিক সিদ্ধান্ত যখন ব্যক্তিগত ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করে, তখন তা কঠিন হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয়ত, ক্ষমতার প্রতিযোগিতা। রাজনৈতিক দলগুলি শুধু নীতি বাস্তবায়ন করে না; তাদের নির্বাচনে জিততে, সংগঠন বজায় রাখতে এবং বিরোধীদের মোকাবিলা করতে হয়। ফলে কখনও দীর্ঘমেয়াদি আদর্শের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লাভের সংঘাত তৈরি হয়।

তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা। নিয়ম থাকলেও যদি তার নিরপেক্ষ প্রয়োগ না হয়, তাহলে নৈতিক আচরণ ব্যক্তির সদিচ্ছার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান সেই ঝুঁকি কমায়।

চতুর্থত, সামাজিক বৈষম্য। মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী হলেও বাস্তবে তাদের সম্পদ, শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগ এবং ক্ষমতায় প্রবেশাধিকার সমান নয়। ফলে একই নিয়ম সবার জন্য থাকলেও তার সুবিধা সবাই সমানভাবে পান না।

পঞ্চমত, নাগরিকের আচরণ। রাজনৈতিক নেতারা একা রাজনীতি তৈরি করেন না। ভোটার, সমর্থক, সংবাদমাধ্যম, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিকদের আচরণও রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে। যদি মানুষ নিজের দলের ভুলকে সমর্থন করেন এবং প্রতিপক্ষের একই ভুলকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন, তাহলে দ্বিচারিতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়।

এই কারণগুলির কোনওটিই ব্যক্তিগত দায়কে বাতিল করে না। বরং এগুলি দেখায়, নৈতিক সমাজ গড়তে ভালো মানুষ প্রয়োজন, কিন্তু শুধু ভালো মানুষের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। এমন নিয়ম ও প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজন, যা অসৎ আচরণের সুযোগ কমায় এবং সৎ আচরণকে কার্যকর করে।

নৈতিকতার আসল পরীক্ষা কোথায়?

রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাস আমাদের একটিমাত্র সরল উত্তর দেয় না। প্লেটো ন্যায়বিচার ও জ্ঞানের প্রশ্ন তুলেছেন, মেকিয়াভেলি ক্ষমতার বাস্তবতা বুঝতে শিখিয়েছেন, মার্কস অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথ রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানবিক সম্পর্কের কথা মনে করিয়েছেন, আর আম্বেদকর দেখিয়েছেন—সংবিধানের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য সামাজিক গণতন্ত্র ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য।

এই চিন্তাবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের তত্ত্বই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু তাঁদের প্রশ্নগুলি আজও আমাদের নিজেদের সমাজকে বিচার করার উপায় দেয়।

আমরা যদি বলি সত্য গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে নিজের পছন্দের নেতার ভুল হলেও তা স্বীকার করতে হবে। আমরা যদি বলি সমতা গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে নিজের সামাজিক গোষ্ঠীর বাইরের মানুষের অধিকারও রক্ষা করতে হবে। আমরা যদি বলি গণতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে বিরোধীর মতপ্রকাশের অধিকারকেও সম্মান করতে হবে।

আর যদি বলি ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ বা সামাজিক ন্যায় আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ, তাহলে সেই আদর্শের পরীক্ষা হবে বাস্তব সিদ্ধান্তে—স্লোগানে নয়।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু রাজনীতিবিদদের নয়। আমরা নিজেরাও কি সেই নৈতিকতা মেনে চলি, যা অন্যের কাছে দাবি করি?

কারণ একটি সমাজের রাজনৈতিক চরিত্র গড়ে ওঠে শুধু তার শাসকদের হাতে নয়; নাগরিকেরা কী সহ্য করেন, কী প্রশ্ন করেন, কী সমর্থন করেন এবং অন্যায়ের সামনে কতটা নীরব থাকেন—তার মধ্য দিয়েও।

বই আমাদের আদর্শ চিনতে শেখায়। বাস্তব জীবন পরীক্ষা করে আমরা সেই আদর্শে কতটা বিশ্বাস করি। আর গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে—ক্ষমতাবান হোক বা সাধারণ মানুষ, কেউই যেন নিজের স্বার্থের জন্য সত্য, ন্যায় ও সমতার মানদণ্ড বদলে দিতে না পারেন।

নির্বাচিত তথ্যসূত্র

  1. Plato, The Republic — ন্যায়বিচার ও আদর্শ রাষ্ট্র নিয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দর্শন।
    https://plato.stanford.edu/archives/fall2004/entries/plato-ethics-politics/

  2. Niccolò Machiavelli, The Prince — ক্ষমতা, শাসন এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা।
    https://plato.stanford.edu/archives/spr2019/entries/machiavelli/

  3. Rabindranath Tagore, Nationalism এবং জাতীয়তাবাদ-সমালোচনা নিয়ে গবেষণা।
    https://www.cambridge.org/core/journals/modern-asian-studies/article/abs/revisiting-rabindranath-tagores-critique-of-nationalism/6F2ACF271F217B5931D6A9F436E368E9

  4. Constituent Assembly of India, B. R. Ambedkar-এর ২৫ নভেম্বর ১৯৪৯-এর ভাষণ।
    https://www.constitutionofindia.net/debates/25-nov-1949/

  5. Government of India, Dr. B. R. Ambedkar Foundation — ভারতের সংবিধান ও আম্বেদকরের রচনাবলি।
    https://drambedkarwritings.gov.in/content/innerpage/indian-constitution.php

Official Editorial PDF Edition

Verified Publication

Download a clean, high-resolution printable copy complete with tables, formulas, and high-res photography. Free for registered readers.

Reader Reviews & Ratings

Community Feedback & Editorial Ratings

Leave a Review

Select your rating:
Excellent (5/5)
Min 3 characters, max 1,500 characters0 / 1500

All Reader Reviews (0)

No reader reviews yet for this story.

Be the first to share your rating and perspective!

More News

Editorial
অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।
Spiritual

অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।

Nov 3, 2026Read →
দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম
National Award

দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম

Nov 2, 2026Read →
ডিজিটাল যুগে মানুষ: যোগাযোগ বেড়েছে, কমেছে কি মানবিক সংযোগ? সময়, প্রযুক্তি ও একাকিত্বের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ
Editorial

ডিজিটাল যুগে মানুষ: যোগাযোগ বেড়েছে, কমেছে কি মানবিক সংযোগ? সময়, প্রযুক্তি ও একাকিত্বের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ

Nov 2, 2026Read →
পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?
Geo Politics

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?

Nov 1, 2026Read →
৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই
Sports

৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই

Nov 1, 2026Read →
বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?
Environment & Ecology

বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?

Nov 1, 2026Read →
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন
International

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন

Nov 1, 2026Read →
Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা
Technology

Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা

Oct 26, 2026Read →
ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড
Award

ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড

Oct 26, 2026Read →
International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide
Geo Politics

International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide

Oct 25, 2026Read →
অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।
Spiritual

অমাবস্যার অন্ধকারে আলোর আরাধনা, শক্তির উপাসনা এবং দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসের জীবনদর্শনে মা কালীর অসীম মহিমা।

Nov 3, 2026Read →
দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম
National Award

দীপক ধর পেলেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ Dirac Medal, আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল ভারতের নাম

Nov 2, 2026Read →
ডিজিটাল যুগে মানুষ: যোগাযোগ বেড়েছে, কমেছে কি মানবিক সংযোগ? সময়, প্রযুক্তি ও একাকিত্বের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ
Editorial

ডিজিটাল যুগে মানুষ: যোগাযোগ বেড়েছে, কমেছে কি মানবিক সংযোগ? সময়, প্রযুক্তি ও একাকিত্বের গবেষণামূলক বিশ্লেষণ

Nov 2, 2026Read →
পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?
Geo Politics

পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাবের পরাজয়: কেন একে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জয় বলছে মরক্কো?

Nov 1, 2026Read →
৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই
Sports

৫৫টি পদকের রানী ট্রিশা জর্ন: প্যারালিম্পিক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সমতার লড়াই

Nov 1, 2026Read →
বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?
Environment & Ecology

বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ: কালীপুজোর মুখেই কি আছড়ে পড়বে নয়া ঘূর্ণিঝড়?

Nov 1, 2026Read →
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন
International

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় লুলার, চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরছেন

Nov 1, 2026Read →
Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা
Technology

Li-Fi থেকে 3D Printing: আধুনিক বিশ্বের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ব্যবহার ও ভারতের সম্ভাবনা

Oct 26, 2026Read →
ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড
Award

ভারত, USA ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার: সামরিক ও অসামরিক সম্মানের সম্পূর্ণ গাইড

Oct 26, 2026Read →
International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide
Geo Politics

International Treaties, Conventions and Agreements: Complete Static GK Guide

Oct 25, 2026Read →
SPONSORED SPOTLIGHT
Book Ad
DebKalpa GalaxyAd

DebKalpa Galaxy

Xerox, Stamp, Flex Print

+91 7319337901
WhatsApp
Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.Ad

Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.

Mathematics Classes, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9051566735
WhatsApp
Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,Ad

Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,

Chemistry, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9874040804
WhatsApp
Arijit Sir, MA, B.EdAd

Arijit Sir, MA, B.Ed

ICSE,CBSE.WB -IX, X, XI & XII,History& Geography-

+91 8013262355
WhatsApp
DebKalpa GalaxyAd

DebKalpa Galaxy

Xerox, Stamp, Flex Print

+91 7319337901
WhatsApp
Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.Ad

Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.

Mathematics Classes, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9051566735
WhatsApp
Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,Ad

Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,

Chemistry, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9874040804
WhatsApp
Arijit Sir, MA, B.EdAd

Arijit Sir, MA, B.Ed

ICSE,CBSE.WB -IX, X, XI & XII,History& Geography-

+91 8013262355
WhatsApp
DebKalpa GalaxyAd

DebKalpa Galaxy

Xerox, Stamp, Flex Print

+91 7319337901
WhatsApp
Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.Ad

Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.

Mathematics Classes, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9051566735
WhatsApp
Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,Ad

Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,

Chemistry, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9874040804
WhatsApp
Arijit Sir, MA, B.EdAd

Arijit Sir, MA, B.Ed

ICSE,CBSE.WB -IX, X, XI & XII,History& Geography-

+91 8013262355
WhatsApp
DebKalpa GalaxyAd

DebKalpa Galaxy

Xerox, Stamp, Flex Print

+91 7319337901
WhatsApp
Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.Ad

Rajkumar Sir, M.Sc, M.Ed.

Mathematics Classes, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9051566735
WhatsApp
Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,Ad

Vivekananda Sir, M.Sc, B.Ed,

Chemistry, XI &XII, ICSE & CBSE

+91 9874040804
WhatsApp
Arijit Sir, MA, B.EdAd

Arijit Sir, MA, B.Ed

ICSE,CBSE.WB -IX, X, XI & XII,History& Geography-

+91 8013262355
WhatsApp