ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্পে ৫০ হাজার টাকা, কন্যাশ্রীর তুলনায় কী বদল?
অবিবাহিত কলেজছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সহায়তার নতুন প্রকল্প অনুমোদন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে চালুর ঘোষণা।

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্প’-এর আওতায় যোগ্য অবিবাহিত ছাত্রীরা তিন বছরের স্নাতক স্তরের পড়াশোনার জন্য মোট ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, আগে কন্যাশ্রী প্রকল্পে কী সুবিধা পাওয়া যেত? নতুন প্রকল্পে কত টাকা মিলবে? কারা এই সুবিধা পেতে পারেন? পুরনো ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন প্রকল্পের পার্থক্যই বা কোথায়?

আগে কী ছিল? কন্যাশ্রী-২ প্রকল্পে এককালীন ২৫ হাজার টাকা
পশ্চিমবঙ্গে মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া এবং অল্প বয়সে বিয়ে রুখতে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হয়েছিল। এই প্রকল্পের K2 অংশে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী অবিবাহিত মেয়েরা ১৮ বছর বয়সে এককালীন ২৫,০০০ টাকা পেতে পারতেন। এর সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ও অবিবাহিত থাকার মতো শর্ত যুক্ত ছিল।
অর্থাৎ, পুরনো ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে একবারে ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার মোট পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার ঘোষণা হয়েছে। পাশাপাশি টাকা দেওয়ার সময়সূচিও বদলানো হচ্ছে।
নতুন ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্পে কত টাকা পাওয়া যাবে?
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণামতো, যোগ্য অবিবাহিত ছাত্রীদের তিন বছরের স্নাতক স্তরের পড়াশোনায় ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হবে।

এই হিসাব অনুযায়ী, প্রথম দুই বছরে ১৭ হাজার টাকা করে এবং তৃতীয় বছরে ১৬ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এটি এককালীন অনুদান নয়; শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী ভাগ করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা।
কন্যাশ্রী-২ ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্প আর্থিক সহায়তা এককালীন ₹২৫,০০০ মোট ₹৫০,০০০ টাকা দেওয়ার পদ্ধতি একবারে তিন শিক্ষাবর্ষে ধাপে ধাপে ঘোষিত অর্থের বিভাজন এককালীন অনুদান ₹১৭,০০০ + ₹১৭,০০০ + ₹১৬,০০০ মূল লক্ষ্য মেয়েদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া ও অল্প বয়সে বিয়ে রোধে সহায়তা উচ্চশিক্ষায় অবিবাহিত ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা I
২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে চালুর ঘোষণা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন: মোট আর্থিক সহায়তা ২৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫০ হাজার টাকা হচ্ছে। তবে নতুন প্রকল্পে টাকা একবারে না দিয়ে তিন শিক্ষাবর্ষে ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রকল্পটি কন্যাশ্রী-২-এর জায়গা নেবে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন?
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় মূলত উচ্চশিক্ষায় পাঠরত অবিবাহিত ছাত্রীদের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে স্নাতক স্তরের প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া ছাত্রীরা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন:
পরিবারের বার্ষিক আয়ের কোনও নির্দিষ্ট সীমা থাকবে কি না।
কোন কোন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঠক্রমের ছাত্রীরা যোগ্য হবেন।
আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগবে।
আবেদন অনলাইনে হবে, নাকি কলেজের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
আগে কন্যাশ্রী-২-এর সুবিধা পাওয়া ছাত্রীরা নতুন প্রকল্পে যোগ্য হবেন কি না।
১২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া সংবাদপ্রতিবেদনগুলিতে এই বিষয়গুলির সম্পূর্ণ সরকারি নির্দেশিকা স্পষ্ট নয়। তাই আবেদন শুরু হয়েছে বা নির্দিষ্ট নথি বাধ্যতামূলক—এমন দাবি এখনই করা ঠিক হবে না।
কবে থেকে টাকা পাওয়া যাবে?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্প ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সময় থেকেই যোগ্য ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট আবেদন-শুরুর দিন, টাকা জমার তারিখ এবং বিস্তারিত পদ্ধতি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণা?
কলেজে ভর্তি হওয়ার পর বই, যাতায়াত, পরীক্ষার ফি, পড়াশোনার অন্যান্য খরচ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে অনেক পরিবারেরই আর্থিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষত গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রে অর্থের অভাব উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হতে পারে।
তিন বছরে ৫০ হাজার টাকার সহায়তা সেই খরচের একটি অংশ মেটাতে সাহায্য করতে পারে। তবে প্রকল্পের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে কারা সুবিধা পাবেন, কত দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং নির্ধারিত সময়ে টাকা পৌঁছয় কি না—তার উপর।
ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্পের ঘোষণায় পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষারত অবিবাহিত ছাত্রীদের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পুরনো কন্যাশ্রী-২ প্রকল্পে এককালীন ২৫ হাজার টাকার পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থায় তিন বছরে মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের আবেদন সংক্রান্ত চূড়ান্ত নিয়ম জানার জন্য রাজ্য সরকারের সরকারি বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করা উচিত। শুধুমাত্র সংবাদ বা সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট দেখে কোনও অননুমোদিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য জমা দেওয়া উচিত নয়।
Official Editorial PDF Edition
Verified PublicationDownload a clean, high-resolution printable copy complete with tables, formulas, and high-res photography. Free for registered readers.
Community Feedback & Editorial Ratings
All Reader Reviews (0)
No reader reviews yet for this story.
Be the first to share your rating and perspective!














